Writing

নারী সাহাবীরা স্বামীর সংসারে কী কাজ করতেন

নারী সাহাবীরা স্বামীর ঘরে কী কাজ করতেন?
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মেয়ে আসমা বিনতে আবি বকর রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফুফাতো ভাই যুবাইর ইবনুল আউয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী

আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন:
“যুবাইর যখন আমাকে বিয়ে করেন, তখন তাঁর ধনসম্পদ বা গোলাম ছিলো না। তাঁর একটি ঘোড়া ছিলো। আমিই সেই ঘোড়াটির জন্য ঘাস কেটে আনতাম। ঘোড়াটির দেখাশোনা করতাম, রাখালি করতাম। আটা পিষে রুটি বানাতাম। অবশ্য আমি ভালো রুটি বানাতে পারতাম না। এক্ষেত্রে মদীনার নারীদের কাছ থেকে আমি সহযোগিতা নিতাম। রাসূলুল্লাহ যুবাইরকে একটি বাগান দান করেন। বাগানটি ছিলো মদীনা থেকে ২ মাইল দূরে। আমি নিজে সেই বাগানে গিয়ে খেজুরের বিচি কুড়িয়ে থলিতে ভরে মাথায় করে বাড়িতে ফিরতাম। দীর্ঘদিন আমাকে এই কাজ করতে হয়েছে। শেষে আমার বাবা (আবু বকর) আমাদের ঘরের কাজে সহযোগিতা করার জন্য একজন দাস পাঠান। এর মাধ্যমে আমি অনেক বড়ো দায়িত্ব থেকে মুক্তি লাভ করি।”
[হায়াতুস সাহাবা: ২/৬৯১, সিয়ারুস সাহাবা: ১১/২৯৭]

আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহার ভাষ্য থেকে পাওয়া যায়, তিনি স্বামীর সংসারের ঘরের কাজের পাশাপাশি বাইরের কাজও করতেন। ঘরে রান্নাবান্না করতেন, ঘোড়ার জন্য ঘাস সংগ্রহ করতেন, বাগান থেকে খেজুরের বিচি সংগ্রহ করতেন।

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেয়ে ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা সংসারের কাজ করতে করতে হাতে ফোসকা পড়ে গেছে!

তিনি শুনেছেন নবিজীর কাছে কিছু দাস-দাসী এসেছে। বাবার কাছে গিয়ে বললেন, তাঁকে যেন একটি দাস/দাসী দেয়া হয়। এতে করে সংসারের কাজের চাপ তার কমবে, তিনি কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যত্র বলেন, “ফাতিমা আমার কলিজার টুকরো সে যা ঘৃণা করে, আমিও তা ঘৃণা করি। তাঁকে যা কষ্ট দেয়, আমাকেও তা কষ্ট দেয়।”

নবিজীর এমন আদরের মেয়ে সংসারের কাজ করতে করতে যখন যাঁতা পিষে কষ্ট পেতেন, তখন চাইলে তাঁর জন্য দাসী রাখতে পারতেন। কিন্তু, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিমদের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে নিজের মেয়েকে দাসী না দিয়ে তাঁকে একটি আমল শেখালেন।

ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা বাবার কাছে যান একজন দাসীর জন্য, বাবা তাঁকে যুহুদের শিক্ষা দিলেন।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা হয় না, সেটা হলো- সংসারের কাজ।

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেয়ে, যিনি জান্নাতের নারীদের নেত্রী, তিনি দুনিয়ার জীবনের সংসারের কাজ করতে করতে হাতে ফোসকা ফেলছেন! তারপরও নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বলেননি,
“তুমি কেনো সংসারের কাজ করবা?
আল্লাহ তো তোমাকে সংসারের কাজ করতে পাঠাননি! আলীকে বলবো তোমার জন্য দাস-দাসী রেখে দেয়, তোমাকে কাজ করতে হবে না!”

কেউ কেউ মাঝেমধ্যে প্রশ্ন তুলে। নারীরা সংসারের কাজ করবে, রান্নাবান্না করবে এগুলো কুরআন-হাদীসের কোথায় আছে?

এসব প্রশ্নকর্তার মূল সমস্যা হলো ইসলামি শরীয়তের উসূল/মূলনীতি সম্পর্কে না জানা।

কোনো নারী সাহাবীর লাইফস্টাইলের একটি দিক নিজেদের মনমতো পেয়ে গেলেই সেটাকে মনমতো ব্যাখ্যা করে তাঁকে আইডল বানানোর প্রয়াসটা যেভাবে দেখা যায়, তার বিপরীতে শতো শতো নারী সাহাবীর লাইফস্টাইল উপেক্ষা করা হয়।

আধুনিক জামানার মতবাদের আলোকে সাহাবীদেরকে পাঠ করা যায় না। যারা কমিউনিস্ট দৃষ্টিকোণ থেকে আবু যর গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছে, যারা পুঁজিবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ব্যাখ্যা করতে গিয়েছে, মিসরের ফাতিমা মেরনিসরা যেমন নারীবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে নারী সাহাবীদেরকে ব্যাখ্যা করতে গিয়েছে, কেউই কিন্তু ইন্টেলেকচুয়াল, একাডেমিক অনেস্টি মেইনটেইন করতে পারেনি।

কারণ, সাহাবীদের জীবনযাপন এতো বৈচিত্র্যময় ছিলো, তাদেরকে একটি বক্সের ভেতরে রাখা যায় না।

লিখেছেন

পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার কলম তাকে উজ্জীবিত করেছে স্বীয় বিশ্বাসের প্রাণশক্তি থেকে।
অনলাইন এক্টিভিস্ট, ভালোবাসেন সত্য উন্মোচন করতে এবং উন্মোচিত সত্যকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Islami Lecture