Writing

যে আমল আরো নিয়ামত নিয়ে আসে

মনে করুন, কেউ আপনাকে এক লাখ টাকা দিয়ে বললো, যদি তুমি আমার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকো তবে আমি তোমাকে আরও বাড়িয়ে দেব।এটা জানার পর কি আপনি বসে থাকবেন?
তখন কি আপনি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন না?
নিশ্চয়ই করবেন। কারো কাছ থেকে সামান্য এক লাখ টাকা পেয়ে যদি আপনি তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত বলে মনে করেন তবে যে আল্লাহ আপনাকে চোখ, নাক, কান, হাত, পা, কিডনি ইত্যাদি এগুলোর মতো দামি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিলেন সেই আল্লাহর প্রতি কোন লেভেলের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত- একটু চিন্তা করুন তো।

দুনিয়ার কোনো মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিনিময়ে নিয়ামত আরো বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণায় যদি আপনি তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার তাগিদ অনুভব করেন তবে আল্লাহ যখন একই কথা বলেন তখন কি আপনার আরও বেশি নিয়ামত পাওয়ার আশায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার কথা নয়?

যারা চায় আল্লাহ যেন তাদেরকে নিয়ামত আরও বাড়িয়ে দেন তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন,

যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আমার নিয়ামত বাড়িয়ে দেবো, আর যদি আমার নিয়ামত অস্বীকার করো (তবে জেনে রেখো,অকৃতজ্ঞদের জন্য) অবশ্যই আমার শাস্তি বড়ো কঠিন।
[সূরা ইব্রাহিম: ০৭]

এই আয়াত পড়ে আমি আল্লাহর দয়া ও ভালোবাসা প্রচন্ডভাবে অনুভব করি। এই অনুভূতি রীতিমতো আমাকে আবগাপ্লুত করে দেয়। কেন জানেন?
কারণ আল্লাহ তা’য়ালা আমাদেরকে এত বেশি নিয়ামতের মধ্যে রেখেছেন যা আসলে কল্পনার বাইরে। আমাদেরকে আল্লাহ যেসব নিয়ামতের মধ্যে রেখেছেন এগুলোর বাইরে আর কোনো নিয়ামত না দিলেও আমাদের খুশি থাকারই কথা। কিন্তু আমাদেরকে এতোকিছু দেওয়ার পরও আল্লাহ বলছেন, আরও বাড়িয়ে দেবেন শুধু একটি কাজ করতে হবে? কী সেটি?
শুকরিয়া আদায় অর্থাৎ ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এর আমল করা। মুখে উচ্চারণটা এমন হওয়া যেন আমার বডি ল্যাঙ্গুয়েজও সেটা সাপোর্ট করে। বলুন, এটা কি কঠিন কাজ?
কিন্তু এই কাজটাই তো আমাদের কাছে অবহেলিত। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার বিষয় আমরা কত সহজেই এড়িয়ে যাই।

বাবা তার সন্তানকে জন্ম দিয়ে প্রতিনিয়ত তাকে অনেক কিছু দিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য সে তার বাবাকে কৃতজ্ঞতা স্বরুপ ধন্যবাদ জানালো। এটা অবশ্যই ভালো কাজ। কিন্তু সে তার বাবার আদেশ নিষেধ মেনে চলে না, বাবার অবাধ্য হয়ে চলে। এবার বলুন তো, এই সন্তান কি তার বাবার প্রতি প্রকৃতরূপে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারলো? অবশ্যই পারলো না। যদিও সে তার বাবাকে মুখ দিয়ে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়েছে তবুও বাবার অনুগত হয়ে না চলার কারণে সে তার প্রতি অকৃতজ্ঞই থাকলো। বাবাকে মুখ দিয়ে ‘ধন্যবাদ’ বলা অর্থাৎ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা তখনই পরিপূর্ণতা পাবে যখন সে তার বাবার অনুগত হয়ে চলবে।

তদ্রূপভাবে, আল্লাহ আপনাকে এত এত নিয়ামত দিয়ে যাচ্ছেন যা পেয়ে আপনি শুকরিয়া স্বরুপ মুখে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললেন ঠিকই কিন্তু নামাজ সময়মতো পড়লেন না, রোজা রাখলেন না, যাকাত দিলেন না, পর্দা সঠিকভাবে পালন করলেন না, সুদ, যিনা, গীবত থেকে বেঁচে থাকলেন না। মোটকথা, আপনি আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চললেন না, তার অবাধ্য হয়ে চলতেই থাকলেন তবে আপনি ঐ সন্তানের মতোই আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞই থেকে গেলেন। মুখ দিয়ে শুকরিয়া আদায় তথা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলাটা তখনই পরিপূর্ণতা পাবে যখন আপনি আল্লাহর অনুগত হয়ে চলবেন।

অন্যভাবে, বাবাকে ‘ধন্যবাদ’ দেওয়ার পর বাবার অবাধ্য হয়ে চললে যেমন সেই ‘ধন্যবাদ’ দেওয়ার কোনো মূল্য থাকে না। ঠিক একইভাবে, আল্লাহর প্রতি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলার পরও আল্লাহর অবাধ্য হয়ে চললে সেই ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলারও কি কোনো মূল্য থাকে, বলুন?
এজন্য আমাদের ঈমান ও আমল এমন হতে হবে যা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলার মূল্য রক্ষা করে।

এবার ধরুন, কাউকে আপনি সবসময় সাহায্য করে আসছেন। কিন্তু সে আপনার সাহায্যের কথা অস্বীকার করে বলে, কই তুমি তো আমাকে কোনো সাহায্য করো নি। সবই আমি আমার নিজের কষ্টে অর্জন করেছি। তার এমন অকৃতজ্ঞ আচরণে আপনার কেমন লাগবে?
আপনি কি আর কখনো তার উপকার করতে চাইবেন?
তার সাহায্য এগিয়ে যেতে আর মন চাইবে?
নিশ্চয়ই আর মন চাইবে না। সে যদি আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করত তবুও আপনি হয়ত সেটা মেনে নিতেন। কিন্তু সে আপনার দয়ার কথা স্বীকারই করছে না, উল্টো আরও বলছে সে নাকি নিজে এগুলো অর্জন করেছে। আর তার এই চরম দাম্ভিক আচরণ তার প্রতি আপনার রীতিমতো রাগ সৃষ্টি হবে।

ঠিক একইভাবে যারা আল্লাহর নিয়ামতের শোকর আদায় করে না তাদেরকে হয়ত আল্লাহ ছাড় দিবেন। কিন্তু যারা আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতকে নিজের অর্জন বলে দাবি করে,যারা আল্লাহর নিয়ামত ভোগ করে আল্লাহর ক্রেডিট দিতে চায় না তারা অনেক বড়ো মাপের নিমক-হারাম। এদের মতো বড়ো অকৃতজ্ঞ আর হতে পারে না। এদেরকে আল্লাহ ঐ আয়াতের শেষে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, আল্লাহ এখন ছাড় দিয়ে রেখেছেন যাতে আল্লাহর দিকে সময় থাকতে ফিরে আসে তবে আল্লাহ যখন ধরবেন তখন আর ছাড়বেন না, আল্লাহর আযাব বড়ো কঠিন।

লিখেছেন

পরকালীন তথা স্থায়ী জীবনের লক্ষ্যে নিজেকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছি। নিজে হেদায়েতের ওপর অটল থাকার পাশাপাশি অন্যেদেরকেও হেদায়েতের দিকে আহবান করা তথা পথ হারাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনাই আমার লেখালেখির মূল উদ্দেশ্য।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Islami Lecture