Writing

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা চাইলে হতে পারে দেশের সেরা ব্যবসায়ী!

মুসলিম ইতিহাস পড়লে দেখা যায় আলেমগণ ছিলেন নিজেদের যুগের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী। তারা নানান ধরনের ব্যবসা করেন।
ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহর ছিলো কাপড়ের ব্যবসা। তিনি তাঁর ব্যবসার মুনাফা দিয়ে ছাত্রদেরকে স্কলারশিপ দিতেন।

তাঁর ছাত্র আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন বড় ব্যবসায়ী। তিনি ১ বছরকে তিনভাগে ভাগ করতেন। ৪ মাস হাদীস পড়াতেন, ৪ মাস থাকতেন যুদ্ধের ময়দানে, ৪ মাস ব্যবসা করতেন।

ইমাম সুফিয়ান আস-সাওরী রাহিমাহুল্লাহর ছিলো তেলের ব্যবসা।

মুহাদ্দিস দা’লাজ ইবনে আহমদ ছিলেন তাঁর যুগের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী। ইমাম আয-যাহাবী বলেন,
দুনিয়ায় দালাজের চেয়ে ধনী কোনো ব্যবসায়ী ছিলো না।

আলেমগণ নানান ধরনের ব্যবসা করতেন। যেমন:
ইমাম নাসিরুদ্দিন শাফি ইবনু আলি এবং শাইখ যাইনুদ্দিন আবুল হাসান ছিলেন বইয়ের ব্যবসায়ী।
আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ, মুসলিম ইবনে সাইদ ছিলেন ফার্নিচার ব্যবসায়ী।

আবু শিহাব মুসা ইবনে নাফে, আবু বকর ইবনে আয়্যাশ, হাসান ইবনু সাহাল ছিলেন গম ব্যবসায়ী।
আবুল আব্বাস আহমাদ, আবু জাফর মুহাম্মদ, আবুল হাসান আলী ছিলেন চাল ব্যবসায়ী।
আবু হামযাহ মাইমুন, আবু জাফর জাসর, হাসান ইবনে আব্দুল্লাহ ছিলেন মাংসের ব্যবসায়ী।

বর্তমান সময়ে অনেক আলেম মধু ব্যবসার সাথে জড়িত। অতীতেও আলেমগণ মধু ব্যবসা করতেন। যেমন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ, আবু জাফর আহমাদ, আবু আলী হাসান, আবুর রজা হুসাইন প্রমুখ।
আবু বকর মুহাম্মদ, ইবরাহিম আজুররি, আবু বকর মুহাম্মদ ছিলেন ইটের ব্যবসায়ী।

আবু আহমাদ মুসআব ইবনু আহমাদ ছিলেন টুপি ব্যবসায়ী।

আলেমগণ যেসব ব্যবসা করেন, সেগুলোতে তারা ছিলেন তাদের যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যবসায়ী। কারণ, ক্রেতারা তাদের কাছে গিয়ে কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতো, ভালো জিনিস পেত, ভালো ব্যবহার পেত। আলেমগণ যখন ব্যবসা করতেন, ব্যবসাকে দ্বীনের খেদমত মনে করে মানুষের উপকার করার চেষ্টা করতেন। যার কারণে ব্যবসায়িক সফলতার পাশাপাশি মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করেন।

বর্তমানে যেকোনো সেক্টরের ‘বড় ব্যবসায়ী একজন আলেম’ এমনটা খুব কমই পাওয়া যায়। এমন না যে বর্তমান যুগের আলেমরা ব্যবসা বুঝেন না বা তাদের সক্ষমতা নেই। সবচেয়ে বড় কথা হলো- আলেমরা বড় ব্যবসায়ী হবেন এই সংস্কৃতি এদেশে নেই, মানসিকতা নেই। যার কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক মাদ্রাসা পড়ুয়া ব্যবসা করতে পারছেন না।

মাদ্রাসা পড়ুয়াদের মধ্যে যারা ব্যবসায়ী হতে চান, তাদের পিছুটান দূর করতে পারে, তাদেরকে আত্মবিশ্বাসী করতে পারে একটি বই। এই বইয়ে [আলেম উদ্যোক্তাদের সোনালি অতীত] মুসলিম ইতিহাসের ৫০০+ আলেমদের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে যারা বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন; যারা ছিলেন তাদের যুগের সফল ব্যবসায়ী।

এই বইটি পড়লে আপনার ৩ টি লাভ:

১। আপনি জানতে পারবেন আলেমগণ কত বৈচিত্রময় ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। যেগুলো পড়ে ‘বিজনেস আইডিয়া’ পাবেন।
২। আপনি যেসব আলেমদের বই পড়েন, যখন দেখবেন তারাও ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকার্জন করতেন, তখন আপনি আত্মবিশ্বাসী হবেন।
৩। ব্যবসা শুরু করলে কেউ বলতে পারে ‘মাদ্রাসায় পড়ে কী হলো? দিনশেষে ব্যবসায়ী হবে?’ তখন আপনি সেইসব বিখ্যাত আলেমদের উদাহরণ দিয়ে বলতে পারবেন- “দু’আ করবেন, আমি যেন তাদের মতো আলেমও হতে পারি।

লিখেছেন

আরিফুল ইসলাম (আরিফ)

আরিফুল ইসলাম (আরিফ)

পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার কলম তাকে উজ্জীবিত করেছে স্বীয় বিশ্বাসের প্রাণশক্তি থেকে।
অনলাইন এক্টিভিস্ট, ভালোবাসেন সত্য উন্মোচন করতে এবং উন্মোচিত সত্যকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে।

লেখকের অন্যান্য সকল পোষ্ট পেতে ঘুরে আসুন

পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার কলম তাকে উজ্জীবিত করেছে স্বীয় বিশ্বাসের প্রাণশক্তি থেকে।
অনলাইন এক্টিভিস্ট, ভালোবাসেন সত্য উন্মোচন করতে এবং উন্মোচিত সত্যকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Islami Lecture