Writing

হাফসা বিনতে উমার: অধিক রোযাদার অধিক সালাত আদায়কারী মহিয়সী রমণী

হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সম্পর্কে জিব্রাইল (আলাইহিস সালাম) প্রসংগক্রমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলেন, “হাফসা খুব বেশি রোযা পালনকারিনী এবং রাতে বেশি বেশি সালাত আদায়কারিনী। জান্নাতে তিনি আপনার স্ত্রী হবেন।”

আল্লাহু আকবার।
হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ছিলেন ইবাদাতে মগ্ন এক মহিয়সী নারী। তিনি প্রচুর পরিমাণে সিয়াম পালন করতেন এবং রাত্রিতে সালাতে দাঁড়িয়ে পড়তেন। এখানে একই সাথে হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) -র উত্তম দুটো গুণ এবং একজন জান্নাতী নারীর দুটো বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছেঃ অধিক সিয়াম পালন এবং রাত জেগে সালাত আদায়।

উম্মুল মুমিনীনের মর্যাদাঃ

হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমার ইবন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর কন্যা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সহধর্মিণী। তাঁর সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি ছিলো অসাধারণ একটি ঘটনা।

আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিতঃ
উমার ইবন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,
“হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) -র স্বামী খুনাইস ইবন হুযাইফাহ আস-সাহমীহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু), যিনি ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সাহাবী এবং বদর যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, মদিনায় ইন্তিকাল করলে হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বিধবা হয়ে পড়লো।

তখন আমি উসমান ইবন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) -র সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) -র কথা উল্লেখ করে বললাম, “আপনি রাজি থাকলে হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) -র সঙ্গে আপনার বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে পোষণ করছি।”

উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, “ব্যাপারটি আমি একটু চিন্তা করে দেখি।”
আমি কিছুদিন অপেক্ষা করলাম।
পরে উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, “এখন বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”
এরপর আমি আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) -এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁকে বললাম, “আপনি ইচ্ছে পোষণ করলে হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কে আপনার নিকট বিয়ে দিতে চাই।”
আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নীরব রইলেন এবং প্রতিউত্তরে আমাকে কিছুই বললেন না।
এতে আমি উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অপেক্ষা আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর নিকট অধিক দুঃখ পেলাম।

এরপর আমি কয়েকদিন অপেক্ষা করলাম। আর এ অবস্থায় স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)- এর জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। আমি তাঁকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিলাম।
পরবর্তীতে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে বললেন, “আমার সঙ্গে হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) -র বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর আমি আপনাকে কোনো উত্তর না দেওয়ায় সম্ভবত আপনি মনোকষ্ট পেয়েছেন।”
আমি বললাম, “হ্যাঁ।”

তখন আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, “আপনার প্রস্তাবে সাড়া দিতে একটি বিষয়ই আমাকে বাধা দিয়েছিল আর তা হচ্ছে, আমি জানতাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) -এর সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন। এ কারণে আমার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর গোপন বিষয়টি প্রকাশ করার ইচ্ছে ছিলো না। যদি তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে গ্রহণ না করতেন, আমি অবশ্যই তাঁকে আমি গ্রহণ করতাম।1

সুবহানআল্লাহ। ইসলাম নারীকে করেছে সম্মানিত এবং নারীর অধিকারকে করেছে সুরক্ষিত।

ইলম অর্জনঃ

ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) -র প্রবল আগ্রহ ছিলো। তিনি মহিলা সাহাবী শিফা বিনতে আবদিল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) -র নিকট লিখতে শিখেছিলেন। এভাবে নিজ আগ্রহ এবং অধ্যবসায়ে তিনি হয়ে উঠেন কুরাইশ এর একজন সুসাহিত্যিক নারী

পরবর্তীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সহধর্মিণী হওয়ার পর তাঁর তত্ত্বাবধানে তিনি ইলম, ফিকহ ও তাকওয়ার দীক্ষা নিয়েছিলেন। সে ইলম দ্বীনের জন্য হয়ে ওঠে কল্যানকর।

আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) উল্লেখ করেছিলেন,
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রীদের মধ্যে একমাত্র হাফসাই আমার সমকক্ষতার দাবীদার ছিলেন।”

সুবহানআল্লাহ।

উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ছিলেন ইসলামের বাগানে প্রস্ফুটিত ফুল। যিনি প্রতিপালিত হয়েছিলেন উমার ইবন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) -র তত্ত্বাবধানে এবং পরিপক্ক হয়ে উঠেছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সান্নিধ্যে। তাকওয়া-ইলম-আমল এবং ইবাদাত-বন্দেগীতে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। আর ইলম এবং তদানুযায়ী আমলে আমরাও যেন হয়ে উঠতে পারি তাঁর মতো ইবাদতগুজার একজন, আমীন।

আল্লাহু আ’লাম

  1. সহীহ বুখারীঃ ৫১২২
    সাহাবিয়্যাত হাওলার রাসূল (মহিয়সী নারী সাহাবীদের আলোকিত জীবন) – শায়খ মাহমূদ আল-মিসরী আবু আম্মার
    Hafsa Bint ‘Umar : the Prophet’s wife in Paradise
    Discovering the Personality of Hafsa bint Umar (RadiAllahu Anha) ↩︎
Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Islami Lecture