সালাতের ২ রাকাআত ছুটে গেলে

আমরা অনেকেই জামা’আতে সালাত আদায় করলেও মাঝে মাঝে জামা’আতে সঠিক সময়ে উপস্থিত হতে পারিনা। সালাতের যে অংশটুকু আমরা ইমামের সাথে আদায় করতে পারিনা তা পরে আদায়ের ব্যাপারে অনেকের মাঝেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা যায়। এ সমস্যা নিরসণের জন্যে নিম্নোক্ত লিখাটি সম্পূর্ণ পড়ার অনুরোধ-

ফজরের ১ রাকা’আত ছুটে গেলে

ইমামের ২য় রাকা’আতের শেষ বৈঠকে অর্থাৎ নিজের ১ম রাকা’আতে তাশাহুদ খুব ধীরে পড়া (ইমাম সালাম ফিরানোর আগ পর্যন্ত) ।
ইমামের সালাম ফিরানোর পরে আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়ানো, সানা পড়া, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজিম, বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পড়ে সূরা শুরু করা।
সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে রুকু সিজদাহ করা।
শেষ বৈঠকে তাশাহুদ, দরুদ, দুয়া মাসূরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা।

ফজরের ২ রাকা’আত ছুটে গেলে

অর্থাৎ ইমামের ২য় রাকা’আতের রুকু শেষ হবার পরে জামা’আত পেলে
ইমামের ২য় রাকা’আতের শেষ বৈঠকে নিজে তাশাহুদ খুব ধীরে পড়া (ইমাম সালাম ফিরানোর আগ পর্যন্ত)।
ইমামের সালাম ফিরানোর পরে আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়ানো, সানা পড়া, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজিম, বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পড়ে সূরা শুরু করা।
স্বাভাবিক যথানিয়মে যেভাবে ২ রাকা’আত সালাত আদায় করা হয়, সেভাবেই সালাত আদায় করা।

যোহর/আসর/এশার ১ রাকা’আত ছুটে গেলে

ইমামের চতুর্থ রাকা’আত শেষ বৈঠকে অর্থাৎ নিজের ৩য় রাকা’আতে তাশাহুদ খুব ধীরে পড়া (ইমাম সালাম ফিরানোর আগ পর্যন্ত) ।
ইমামের সালাম ফিরানোর পরে আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়ানো, সানা পড়া, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজিম, বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পড়ে সূরা শুরু করা।
নিজের ৪র্থ রাকা’আতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে রুকু সিজদাহ করা।
শেষ বৈঠকে তাশাহুদ, দরুদ, দুয়া মাসূরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা।

যোহর/আসর/এশার ২ রাকা’আত ছুটে গেলে

ইমামের চতুর্থ রাকা’আত অর্থাৎ নিজের ২য় রাকা’আতে তাশাহুদ খুব ধীরে পড়া (ইমাম সালাম ফিরানোর আগ পর্যন্ত) ।
ইমামের সালাম ফিরানোর পরে আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়ানো, সানা পড়া, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজিম, বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পড়ে সূরা শুরু করা।
নিজের ৩য় রাকা’আতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে রুকু সিজদাহ করা।
৪র্থ রাকা’আত ঠিক একইভাবে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে আদায় করে রুকু সিজদাহ করা।
এরপরে শেষ বৈঠকের জন্যে বসে তাশাহুদ, দরুদ, দুয়া মাসূরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা।

যোহর/আসর/এশার ৩ রাকা’আত ছুটে গেলে

ইমামের চতুর্থ রাকা’আত অর্থাৎ নিজের ১ম রাকা’আতে তাশাহুদ খুব ধীরে পড়া (ইমাম সালাম ফিরানোর আগ পর্যন্ত) ।
ইমামের সালাম ফিরানোর পরে আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়ানো, সানা পড়া, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজিম, বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পড়ে সূরা শুরু করা।
নিজের ২য় রাকা’আতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে রুকু সিজদাহ করা।
এরপরে বৈঠকে বসে তাশাহুদ পড়া।
আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়িয়ে নিজের ৩য় রাকা’আত আরম্ভ করা, সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলানো।
এরপর রুকু সিজদাহ করে ৪র্থ রাকা’আতের জন্যে উঠা।

৪র্থ রাকা’আত শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা পড়ে রুকু সিজদাহ করা।
এরপরে শেষ বৈঠকের জন্যে বসে তাশাহুদ, দরুদ, দুয়া মাসূরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করব।
যোহর/আসর/এশার ৪ রাকা’আত ছুটে গেলেঃ অর্থাৎ ইমামের ৪র্থ রাকা’আতের রুকু শেষ হবার পরে জামা’আত পেলে
ইমামের ৪র্থ রাকা’আতের শেষ বৈঠকে নিজে তাশাহুদ খুব ধীরে পড়া (ইমাম সালাম ফিরানোর আগ পর্যন্ত) ।
ইমামের সালাম ফিরানোর পরে আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়ানো, সানা পড়া, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজিম, বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পড়ে সূরা শুরু করা।

স্বাভাবিকভাবে যথানিয়মে যেভাবে ৪ রাকা’আত সালাত আদায় করা হয়, সেভাবেই সালাত আদায় করা।
প্রথম দুই রাকা’আতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলানো।
এরপরে বৈঠকে বসে তাশাহুদ পড়া।
এরপরে ৩য় ও ৪র্থ রাকা’আতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়া।
শেষ বৈঠকের জন্যে বসে তাশাহুদ, দরুদ, দুয়া মাসূরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা।

মাগরিবের ১ রাকা’আত ছুটে গেলে

ইমামের ৩য় রাকা’আত অর্থাৎ নিজের ২য় রাকা’আতে তাশাহুদ খুব ধীরে পড়া (ইমাম সালাম ফিরানোর আগ পর্যন্ত) ।
ইমামের সালাম ফিরানোর পরে আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়ানো, সানা পড়া, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজিম, বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পড়ে সূরা শুরু করা।
নিজের ৩য় রাকা’আতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলানো।
এরপর রুকু সিজদাহ করে শেষ বৈঠকের জন্যে বসা।
শেষ বৈঠকে বসে তাশাহুদ, দরুদ, দুয়া মাসূরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা।

মাগরিবের ২ রাকা’আত ছুটে গেলেঃ

ইমামের ৩য় রাকা’আতের শেষ বৈঠকে অর্থাৎ নিজের ১ম রাকা’আতে তাশাহুদ খুব ধীরে পড়া (ইমাম সালাম ফিরানোর আগ পর্যন্ত) ।
ইমামের সালাম ফিরানোর পরে আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়ানো, সানা পড়া, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজিম, বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পড়ে সূরা শুরু করা।
নিজের ২য় রাকা’আতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলানো।
এরপর রুকু সিজদাহ করে বৈঠকে বসে তাশাহুদ পড়া।
এরপরে আল্লাহু আকবার বলে উঠে দাঁড়ানো।
নিজের ৩য় রাকা’আতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলানো।
শেষ বৈঠকে বসে তাশাহুদ, দরুদ, দুয়া মাসূরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা।

মাগরিবের ৩ রাকা’আত ছুটে গেলে

অর্থাৎ ইমামের ৩য় রাকা’আতের রুকু শেষ হবার পরে জামা’আত পেলে

ইমামের ৩য় রাকা’আতের শেষ বৈঠকে নিজে তাশাহুদ খুব ধীরে পড়া (ইমাম সালাম ফিরানোর আগ পর্যন্ত) ।
ইমামের সালাম ফিরানোর পরে আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়ানো, সানা পড়া, আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজিম, বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পড়ে সূরা শুরু করা।
স্বাভাবিকভাবে যথানিয়মে যেভাবে ৩ রাকা’আত সালাত আদায় করা হয়, সেভাবেই সালাত আদায় করা।
প্রথম দুই রাকা’আতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলানো।
এরপরে বৈঠকে তাশাহুদ পড়া।
এরপরে ৩য় রাকা’আতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়া।
শেষ বৈঠকের জন্যে বসে তাশাহুদ, দরুদ, দুয়া মাসূরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা।

আশা করি সকলে বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছেন। যদি এতে একজনের ও উপকার হয়ে থাকে তাহলে তার সমস্ত কৃতিত্ব মহান রব আল্লাহ্‌ (ﷻ) এর। আর এতে যদি কোন ভুল থেকে থাকে তাহলে তা আমার নিজের নফসের শয়তানের ভুল। আল্লাহ্‌ আমার উপর রহম করুন ও আমাদের সকলকে নিয়মিত জামা’আতে যথাসময়ে সালাত আদায়ের তৌফিক দিন, আমিন।

লিখেছেন

ত্বলিবুল ইলম, আমৃত্যু শিখে যেতে চাওয়া এক শিক্ষার্থী, আল্লাহ্‌কে সন্তুষ্ট করে তার নিকট ফেরত যেতে চাওয়া এক নগণ্য বান্দা

Exit mobile version