যে দয়া করে না সে দয়া পায় না

মেয়েরা সাধারণত ছোটো কোনো বাচ্চা পেলে আদর করা শুরু করে, তাদেরকে কোলে নেয়, চুমো দেয়। খুব সহজেই তারা আপন করে নিতে পারে; হোক বাচ্চাটি পূর্ব-পরিচিত বা অপরিচিত। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় কেউ যদি তার ছোটো ভাই-বোনকে নিয়ে যায়, বাকিরা তাকে কোলে নেবার জন্য কাড়াকাড়ি শুরু করে। অন্যদিকে, ছেলেরা এতোটা বাচ্চা-পাগল না হলেও ছোটো বাচ্চা দেখলে তাদেরও আদর করতে মন চায়।

ছোটো বাচ্চাদেরকে এই যে আদর করতে মন চাওয়া, তাদেরকে চুমো দেওয়ার সহজাত প্রবণতাকে ইসলাম কিভাবে দেখে?
হাসান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদরের নাতি, ফাতিমার (রাদিয়াল্লাহু আনহা) পুত্র। একদিন পাবলিক-প্লেইসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসানকে (রা:) চুমো দিলেন।

আরব, যেখানে একসময় বাবারা নিজেদের মেয়েদেরকে জীবন্ত কবর দিতো, সেই সমাজে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকজনের সামনে তাঁর নাতিকে চুমো দিচ্ছেন? সন্তানকে আদর-স্নেহ তো মানুষ ঘরের মধ্যে করে। ঘরের বাইরে কি কেউ সন্তানকে এভাবে চুমো দেয়?

আকরা ইবনে হারিস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নামের এক সাহাবী দৃশ্যটি দেখে দারুণ অবাক হলেন। দৃশ্যটি দেখে তিনি যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। এরকম একটা সমাজে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সবার সামনে তাঁর নাতিকে চুমো দিলেন, এটা যেন তিনি মেনে নিতে পারছেন না। বাচ্চাকে চুমো দেওয়া যেন তাঁর কাছে দুর্বলতা-দুর্বলতা মনে হচ্ছে।

তিনি বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমারও তো দশটা ছেলে আছে। কই, আমি তো কোনোদিন কাউকে চুমো দেইনি!”
সন্তানকে চুমো না দেওয়া যেনো খুব গর্বের একটা কথা! তাঁর কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন:

“মাল্লা ইয়ারহামু, লা ইয়োরহাম।”

যারমানে হলো:

“যে দয়া করে না, সে দয়া পায় না।”
[সহীহ বুখারী: ৫৯৯৭]

অর্থাৎ, তুমি তোমার সন্তানকে চুমো দেও না, আদর-সোহাগ করো না, তাহলে তুমি কিভাবে আশা করো বুড়ো হলে তোমার সেই সন্তান তোমাকে আদর করবে? তোমার সন্তানকে তুমি দয়া দেখাও না, সেই সন্তান কিভাবে মানুষজনের সাথে দয়া দেখাবে, মানুষজনকে ভালোবাসবে?

ছোটো বাচ্চাদেরকে চুমো দেবার ব্যাপারে ইসলাম কেবল উৎসাহ-ই দেয় না, বরং এটাকে বাচ্চাদের প্রতি দয়া প্রদর্শনের অন্যতম মাধ্যম বলে আখ্যায়িত করেছে। যারা এমনটা করেন, তারা প্রকারান্তে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর অনুসরণ করেন।

৩০তম পর্ব

লিখেছেন

আরিফুল ইসলাম (আরিফ)

পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার কলম তাকে উজ্জীবিত করেছে স্বীয় বিশ্বাসের প্রাণশক্তি থেকে।
অনলাইন এক্টিভিস্ট, ভালোবাসেন সত্য উন্মোচন করতে এবং উন্মোচিত সত্যকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে।

লেখকের অন্যান্য সকল পোষ্ট পেতে ঘুরে আসুন

পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার কলম তাকে উজ্জীবিত করেছে স্বীয় বিশ্বাসের প্রাণশক্তি থেকে।
অনলাইন এক্টিভিস্ট, ভালোবাসেন সত্য উন্মোচন করতে এবং উন্মোচিত সত্যকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে।

Exit mobile version