Writing

সাহাবীদের পোশাক কেমন ছিল

সাহাবীরা ছেঁড়া জামা-কাপড় পরতেন, কোনোরকম কাপড় পরতেন এটা যেমন সত্য, তেমনি সাহাবীরা অনেক দামি কাপড় পরতেন এটাও সত্য।
সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী ছিলেন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

তারা যখন কোনো দামি কাপড় পরতেন, অন্যরা জিজ্ঞেস করতেন দাম কতো? তারা তখন কাপড়ের দাম বলতেন।

উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার ৮০০ দিরহামের একটি কাপড় পরেন। ৮০০ দিরহামে বর্তমানে কতো লক্ষ টাকা এটা এভাবে হিশেব না করে যাস্ট চিন্তা করুন- তখন ৮০০ দিরহামে অন্তত ৬০ টি ভেড়া কেনা যেতো।

আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি জামার দাম ছিলো ৫০০ দিরহাম। ৫০০ দিরহামে তখন অন্তত ৪০ টি ভেড়া পাওয়া যেতো।

বর্তমানে একটি ভেড়ার দাম যদি ১০,০০০ টাকা ধরেন, তাহলে কতো হয়?

সাহাবীদের অর্থনৈতিক জীবন ছিলো মানবকল্যাণমুখী। তারা এতো এতো সম্পদ অর্জন করেন, কিন্তু নিজেরা সেগুলো ভালোভাবে ভোগ না করে অন্যদেরকে দিয়ে দেন। তারা বাই চান্স গরীব ছিলেন না; বাই চয়েস এমন লাইফ লিড করেন।
ঘটনাগুলো পাবেন: তাবাকাত ইবনে সা’দ: ৩/৪২, ৩/৯৭।

ভালো জামা-কাপড় পরার প্রতি সাহাবীদের ফ্যাসিনেশন ছিলো, সেটা বুঝা যায় নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অহংকার সংক্রান্ত হাদীস থেকে। তিনি যখন বললেন, অহংকারীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, তখন সাহাবীরা বললেন- তারা ভালো পোশাক পরতে পছন্দ করেন। এটা অহংকারের মধ্যে পড়বে কিনা? নবিজী ‘না’ করেন। বলেন, ভালো কাপড় পরা অহংকার না। আল্লাহ তো এটা পছন্দ করেন। নবিজী বিরোধিতা করেন show off করতে, অন্যকে খোঁটা দিতে।

সাহাবীরা জীর্ণশীর্ণ পোশাক পরতেন, এই ঘটনাগুলো আমাদের কাছে এতো চর্চা হয় যে, আমরা বিপরীত পার্টটা অনেকেই জানি না।

এই দুই ঘটনার এক্সেপশন না। এরকম অসংখ্য ঘটনা আছে অন্যান্য সাহাবীদের।

সাহাবীদের সময় কিছু ‘কমন পোশাক’ ছিলো। ঐ পোশাকগুলো নারী বা পুরুষ যে কেউ পরতে পারতো। সাহাবীরা তাদের স্ত্রীদের পোশাক পরতেন বা তাদের স্ত্রীরাও তাদের পোশাক পরতো –এরকম ঘটনা পাওয়া যায়।

এমনকি কোনো কোনো সাহাবী তাঁর স্ত্রীকে ইমপ্রেস করার জন্য স্ত্রীকে গিফট দেয়া ‘কমন’ পোশাকটি পরতেন।

উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী ছিলেন নাইলা বিনতে ফুরাফিসা।

একদিন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর স্ত্রীকে দেয়া জামা পরে বাইরে বের হন। মানুষজন তাঁকে জামার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “এটা আমার স্ত্রীর জামা। আমি তাঁকে উপহার দিয়েছি। আমি এটা পরলাম, যাতে সে খুশি হয়।”

কথাটির সামারি যদি করা হয়, তাহলে দাঁড়ায়- উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর স্ত্রীকে উপহার দেয়া জামাটি পরেন স্ত্রীকে খুশি করতে।

একজন সাহাবীর দাম্পত্য জীবনের জায়গা থেকে দেখুন, বিয়ের পরও স্ত্রীকে ইমপ্রেস করার চেষ্টা করতে হয়। এমন না যে বিয়ের পর ‘পেয়েই তো গেলাম’ ভেবে যেমন ইচ্ছে তেমন বিহেভ করবেন।

দাম্পত্য জীবন সুন্দর, সুখময় করতে প্রতিনিয়ত খেয়াল রাখতে হয়।

তথ্যসূত্র: তাবাকাত ইবনে সা’দ: ৩/৪২

লিখেছেন

আরিফুল ইসলাম (আরিফ)

আরিফুল ইসলাম (আরিফ)

পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার কলম তাকে উজ্জীবিত করেছে স্বীয় বিশ্বাসের প্রাণশক্তি থেকে।
অনলাইন এক্টিভিস্ট, ভালোবাসেন সত্য উন্মোচন করতে এবং উন্মোচিত সত্যকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে।

লেখকের অন্যান্য সকল পোষ্ট পেতে ঘুরে আসুন

পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার কলম তাকে উজ্জীবিত করেছে স্বীয় বিশ্বাসের প্রাণশক্তি থেকে।
অনলাইন এক্টিভিস্ট, ভালোবাসেন সত্য উন্মোচন করতে এবং উন্মোচিত সত্যকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Islami Lecture