Writing

রমাদানের প্রস্তুতি – ০১ ‘রজব’ আমলে বীজ বপনের মাস

আলহামদুলিল্লাহ এসে গেছে সম্মানিত রজব….
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’লা চারটি মাসকে সম্মানিত ঘোষণা করেছেন। তার মধ্যে রজব একটি। রজব ও শা’বান মাস পবিত্র রমাদানের আগমনী বার্তা নিয়ে আমাদের কাছে হাজির হয়।

যদিও আমাদের প্রিয় রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাদানের অনেক আগে থেকেই ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন। সাহাবীগণ ও প্রায় ছয়মাস আগে থেকেই রমাদানের ইবাদতের প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। রমাদান এলে উনারা নিজেদের ইবাদত নিয়ে এতটাই মগ্ন থাকতেন যে একে অপরের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াতেন।

রমাদান হলো ইবাদতের মাস, রহমতের মাস, বারাকাতের মাস, নাযাতের মাস। তাই আত্মশুদ্ধির জন্য, রমাদানের ইবাদতে পরিপূর্ণ ভাবে আত্মনিয়োগের জন্য রজব মাস মাস থেকেই আসুন আমরা নিজেদের প্রস্তুত করি। রজব মাসকে বলা হয় আমলের বীজ বপনের মাস। শাবান সেচের মাস আর রমাদান হলো ফসল তোলার মাস।

রজব মাস সম্পর্কে আবু বকর আল-বাল্কি (রহ.) এর সুন্দর একটি উক্তি আছে,

“রজব হলো বীজ বপনের মাস,
শাবান হলো সেচের মাস আর
রমাদান হলো ফসল কর্তনের মাস।

তিনি আরো বলেছেন,

“রজব মাস হলো বাতাস বওয়ার মাস,
শাবান হলো সেই বাতাসে মেঘের ঘনঘটার মাস আর রমাদান হলো বৃষ্টি নামার মাস।”

তাই যদি ভালো বীজ না বপন করা হয় তাহলে কি ভালো ফসল পেতে পারবো?

আমরা যদি আজ থেকে কিছু কিছু আমলের লিস্ট করে ফেলি অর্থাৎ কুরআন শেখা, সূরাহ মুখস্থ করা, দু’আ শেখা ইত্যাদি আরো অনেক আমলে নিজেদের সম্পৃক্ত করে ফেলি ; তবে রমাদানে ইবাদত করা আমাদের জন্য কিছুটা সহজসাধ্য হবে ইনশাআল্লাহ। যারা শুদ্ধ ভাবে তাজউইদ জানেন না তাদের জন্য তাজউইদ শিখে নেওয়াটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুদ্ধভাবে কুরআন না পড়লে কুরআনের অর্থ চেইঞ্জ হয়ে যায়।

আসুন আজ থেকে আমরা সূরাহ / দু’আ শিখি, পড়ি। রমাদানে কি কি ইবাদত করবো, ভালো কাজ করবো তার লিস্ট করি এবং পবিত্র রমাদান মাসের ইবাদতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করি। এক্ষেত্রে আরও একটা বিষয় আমাদের আত্মশুদ্ধির জন্য রিমাইন্ডার হিসেবে মনে রাখতে পারি; তাহলো নিজেদের আখলাকে কিছু সংযোজন আর কিছু বিয়োজন করতে হবে আমাদেরকে। উত্তম আমল, সদাচরণ এবং অন্যান্য ইবাদতের মাধ্যমে যেমনি আমাদের আখলাককে উন্নত করতে পারি ; তেমনি ভাবে গীবত, পরচর্চা, মিথ্যা, হিংসা এসব বিভিন্ন দোষ বিয়োজনের মাধ্যমে ও আমাদের আখলাককে শুদ্ধ করে নেয়ার চেষ্টা করতে পারি।

এক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে সবার সময়, সুযোগ অর্থাৎ সাধ্য, পরিস্থিতি অনুযায়ী চেষ্টা করতে হবে। অন্যরা অনেক বেশি শিখে ফেলেছেন, অনেক ইবাদত করছেন এটা ভেবে মন খারাপ করা যাবে না, ভেঙে পড়লে চলবে না। কারণ সবার জীবন, সবার পরিস্থিতি অবশ্যই আলাদা। সবার জীবনের পরীক্ষা গুলিও আলাদা। আর আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আস- সামিউল বাসীর, আল- লাতিফুল খবীর। তিনি আমাদের সবার সবকিছু জানছেন, শুনছেন, দেখছেন। তিনি আমাদের সবার ইখলাস আর প্রচেষ্টাকেই মূল্যায়ন করবেন। তো আমরা সবাই সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করে যাবো ইনশাআল্লাহ।

কোন কিছুর লিস্ট থাকলে সে অনুযায়ী কাজ করাটা মোটামুটি সহজ হয়। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার কাছে নেক হায়াত চাই তিনি যেন আমাদের সবাইকে সুস্থ রাখেন, রমাদান পর্যন্ত পৌঁছে দেন। তিনি যেন আমাদের জন্য যেন রমাদানের ইবাদতের প্রস্তুতি নেওয়াটা সহজ করে দেন।

লিখেছেন

ইসমত আরা

ইসমত আরা

লেখালেখি আমার একটি পছন্দের জায়গা, আবেগের জায়গা। মূলত আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার সন্তুষ্টি ও সাদাকায়ে জারিয়ার জন্যই লেখালেখি করি। তবে কখনো নিজের শখ হিসেবে, থেরাপি হিসেবে ও লিখি। ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখা আমার মেইন ফোকাস।

লেখকের অন্যান্য সকল পোষ্ট পেতে ঘুরে আসুন
Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Islami Lecture