Writing

পরিত্যক্ত সুর্মাদানি

সময়টা বিকেল বেলা মাদ্রাসার ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে গল্পের আসর জমিয়েছে পঁচিশ বছর বয়সী শিক্ষিকা আমাতুল্লাহ। বাচ্চারা সবাই তাকে ভালোবেসে বুবু বলে ডাকে এবং ভীষণ ভালোবাসে তাকে ভালোবাসার প্রধান কারণ হচ্ছে তার বলা ‘গল্প‘। কেননা তার উপস্থাপন করা গল্পের প্রতিটা শব্দে শব্দে যেনো গল্পটা কল্পনায় দৃশ্যমান হয়ে উঠে। মাঝেমাঝে বাকি শিক্ষিকারাও তার গল্প শুনে অতি আগ্রহের সাথে। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বরাদ্দ থাকে তার গল্প শোনার জন্য। আজ সেই বৃহস্পতিবার। বাচ্চাদের সাথে সাথে বাকি ক’জন শিক্ষিকারাও তাকে চেপে ধরেছে নিজের জীবন গল্প শুনানোর জন্য। রক্তের সম্পর্ক না হলেও দ্বীনি বোন গুলোর সাথে তার আত্মার সম্পর্ক হয়ে উঠেছে। তারাও রুহামাকে অনেক আপন মনে করে। তাই কেন যেনো আর না করতে পারলো না। হাসিমুখে গল্প শুরু করতে লাগলো।

বিকেলের মিষ্টি রোদ্দুর, সূর্য তার মিষ্টি আলোতে শহরটার সৌন্দর্য যেনো ফুটিয়ে তুলেছে। বাচ্চারা বন্ধুদের নিয়ে তাদের খেলাধুলায় ব্যস্ত। কেউ আবার যাবতীয় কাজ শেষ করে ঘরে ফিরবার বন্দবস্ত করছে। তাদের দলে আকাশের বুকে খেলা করা পাখিরাও বিদ্যমান। একে একে, নাহয় দলবেঁধে ফিরছে তারা আপন নিড়ে। সারাদিনের ব্যস্ততা আর কত?
দিনশেষে সবার মাঝেই ক্লান্তিরা এসে ভর করে। দিনশেষে সব ভালো থাকার কিংবা শক্ত থাকার অভিনয়ের ইতি ঘটে। আকাশ ধিরে ধিরে নুইয়ে পড়ছে সূর্যকে বিদায় দেওয়ার শোকে।

অন্যদিকে আরেকজন ডুবে আছে বই পাতায়। উপন্যাস প্রেমি নাম রুহামা। মাঝে মাঝেই উপন্যাস পড়তে গিয়ে মনে মনে তার হবু জওজের কথা ভাবতে বসে দু’চার লাইন লিখেও ফেলে সে। তবে নাটক সিনেমার মত রোমান্টিকতা সে চায় না। চায় না তার স্বপ্নের পুরুষ পংখী ঘোড়ায় করে আসুক; হাতে করে নিয়ে আসুক অবিরাম চাঁদের জোছনা। সে বারংবার চায় সবটা যেনো আমাদের নবী সাঃ এর সুন্নাহ অনুযায়ী হয়। এবং এও চায় দুজনার ভালোবাসা আর সম্পর্কের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকুক হালালের ছোঁয়া। যা মন প্রশান্ত করার পাশাপাশি রবকেও খুশি করবে।

রুহামার বয়স তখন আঠারো ছুঁইছুঁই। এক কথায় যাকে বলে উড়ন্ত বয়স। কল্পনার রঙে আঁকা, টুকরো টুকরো শব্দে সাজানো, ছন্দে মেশানো রুপ কথার গল্পের মতই মনে হয় তখন জীবনটাকে। শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা দিলেও শৈশবের ঘ্রাণটা যেনো তখনো তার ভিতরে রয়ে গেছে। ঠিক যখন থেকে শব্দের আকার একার একত্রিত করে সে পড়তে শিখেছে। একমাত্র নিঃস্বার্থভাবে সঙ্গ পেয়েছে বই বন্ধু থেকে। সেই থেকেই তার জান প্রাণ সবটাই হচ্ছে তার বই।

বিকেল তখন পাঁচটা – আছরের নামাজটা আদায় করে তাসবি হাতে গুনতে গুনতে রুহামার ঘরে প্রবেশ করলেন তার মা সারা বেগম। বরাবরের মতই মেয়েকে দেখতে পেলেন বইয়ের পাতায় ডুবে থাকা অবস্থায়। রুহামা এখনো তার মায়ের উপস্থিতি টের পায়নি। কারণ তার দৃষ্টি এখনো বই পাতার উপর নিবদ্ধ। মা আপন মনে মেয়েকে দেখে চলেছে। আর ভাবছে কত অল্প সময়ে তার মেয়েটা বড় হয়ে গেলো। কিন্তু তার চালচলনে তার বড় হওয়া যেনো কোনোভাবেই প্রকাশ পায় না। রুহামা একদম অন্যরকম আর পাঁচটা মেয়ের মত নয়। যেই বয়সে মেয়েরা সাজসজ্জা, হারাম সম্পর্ক, বন্ধুবান্ধব নিয়ে উঠেপড়ে লেগে থাকে, সেই বয়সে তার মেয়ে সারাদিন বই নিয়ে ডুবে থাকে।

শুধু মাত্র খাওয়াদাওয়া আর তার বাবা আসার সময়টায় তার দেখা মিলে। সারা বেগম আর জাফর রহমানের বিয়ের দশ বছর পর রুহামার আগমন ঘটে তাদের পরিবারে। লোকে তো সারা বেগমকে বন্ধা উপাধি পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছিলেন। তবুও তারা সবর করে গেছেন। কত কত চাওয়া আর দু’য়ার পরে রুহামাকে পাওয়া; সে অনেক যুদ্ধ। বাবা-মায়ের বড্ড আদুরের মেয়েটা। লোকে বলে আদুরের মেয়েরা খাপছাড়া হয়, ছন্নছাড়া হয়, এলোমেলো হয়। কিন্তু রুহামার বেলায় পুরাই ভিন্ন। একদম পরিপাটি মেয়েটা।

হঠাৎ করে মেয়ের কাশির শব্দে ঘোর কাটলো সারা বেগমের। ঘোর কাটতেই তিনি আমতা-আমতা শুরু করলেন। মায়ের ঘাবড়ে যাওয়ার ব্যপারটা বুঝতে বাকি রইলো না রুহামার। সে হাতে থাকা বইটা বিছানার উপর রেখে শান্ত গলায় মাকে বলল,

— কিছু বলবে আম্মু?
মেয়ের প্রশ্নের জবাবে কেশে উঠে সারা বেগম পালটা প্রশ্ন ছুড়লো,
নামাজ পড়েছিস?
যদিও মা জানে নামাজের ব্যাপারে রুহামা একদম সতর্ক তবুও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তার মুখ দিয়ে স্বাভাবিক প্রশ্নই বের হলো।
মায়ের প্রশ্নের জবাবে রুহামা বলল,

– হ্যাঁ আম্মু পড়েছি। আজান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই।কারণ আছরের নামাজ ওয়াক্তের সাথে সাথেই পড়ে ফেলা উত্তম।

মেয়ের প্রশ্নের উত্তরে মুচকি হেসে দরজা টেনে দিয়ে চলে আসলেন সারা বেগম। মাঝেমাঝে এমন সভ্য মেয়ের কথা চিন্তা করলে মনটা খুশিতে ভরে উঠে। আবার মাঝেমধ্যে মনে চিন্তা আসে এত সহজসরল মেয়ে এই পশুজগতে শক্ত হয়ে বেঁচে থাকতে পারবে তো?
যদিও মনেপ্রাণে মেয়ের জন্য আপ্রাণ দু’আ করতে একদিনও ভুল হয় না তার। তবুও মা’তো মা’ই চিন্তার কি শেষ আছে?

পরেরদিন

ফজরের আজান ভেসে আসছে চারিদিক থেকে। শীতকাল না আসতেও ফজরের সময়টা যেনো শীতকাল মনে হয়। যদিও শরৎকাল বেশি দূরে নয়। পর্দায় ঢেকে থাকা জানালায় ভীষণ বাতাস এসে পর্দাকে আড়াল করে দিলো। আকাশ থেকে এখনো রাতের রূপ পুরপুরি মিটেনি। রুহামা ঘুম থেকে উঠেই জানালা থেকে পর্দা টা সরিয়ে দিলো। কারণ পর্দার জন্য আকাশ দেখতে একদম অসুবিধা হয় তার। আর আকাশ দেখার সময় কোনরকম বাধা সহ্য করা যায় না। পর্দা সরিয়ে আকাশের দিকে মুখ করতেই আবারও ঠান্ডা বাতাস এসে রুহামার মুখ ছুয়ে দিলো। এ যেনো প্রকৃতির পক্ষ হতে সকালের শুভেচ্ছা বার্তা। প্রকৃতি প্রেমিদের ভালোবাসার প্রতিদানে একটু ভালোবাসা হয়তো প্রকৃতিরা এভাবেই দিয়ে থাকে। আকাশের দিকে তাকিয়ে রুহামা বিড়বিড় করে কি যেনো বলে উঠলো। কারণ সে জানে আকাশের দিকে তাকিয়ে দু’আ করলে তা কবুল হয়। তারপর হুট করেই কি যেনো মনে পড়তেই রুহামা তড়িঘড়ি করে ওয়াশরুমের দিকে ছুটে গেলো। ইশ! শুধু প্রকৃতির ভালোবাসায় সাড়া দিলে চলবে?
রবের ডাকে সাড়া দিতে হবে না। ভাবতে ভাবতেই ওজু শেষ করে জায়নামাজ বিছিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো রুহামা।

শরীরের আড়মোড়া ভেঙে আস্তে আস্তে ঘুম থেকে উঠে বিছানায় বসলো সারা বেগম। শরীরটা আজকাল চলতে চায়না। বয়স পয়তাল্লিশের কাছাকাছি। হাই তুলতে তুলতে পাশে তাকিয়ে জাফর রহমানের দেখা পেলেন না তিনি। এতক্ষণে উঠে উনি মসজিদে চলে যায়। সারা বেগমও বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালেন। মাথাটা ঝিমঝিম করছে। শরীরে নানান রোগের বাসা। ডায়বেটিস, হাই প্রেসার, হাই কোলেস্টেরল আরও নাম না জানা অনেক রোগ। মধ্যবিত্ত পরিবারের বউ তাই ডাক্তার দেখিয়ে এত টাকা খরচ করতেও গায়ে লাগে।

একেকটা টেস্ট এর খরচ দিয়ে পুরো মাসের বাজার খরচ চলে যায়। তাই সহ্য করার মতন ব্যথা গুলো পদে পদে হজম করে আসছেন সারা বেগম। এরপর যখন সহ্য শক্তির সীমা অতিক্রম হয়ে যায় তখন মুখে তুলে নেন হাই পাওয়ারি পেইন কিলার। যদিও তা স্বাস্থের জন্য অনেক ক্ষতিকর তবুও। স্বামী একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন স্বল্প অংকের বেতন পান। যা দিয়ে তাদের বিলাসিতা জীবন না গেলেও বেশ ভালোই চলে বলে মনে করেন সারা বেগম।

নামাজ শেষ করে চেয়ার টেনে বসলো রুহামা। সামনে টেবিলে তার একাডেমিক বই রাখা। যা তার একদম অপছন্দ। তবুও পড়তে হয়। পড়াশোনায় সে আহামরি ভালো ছাত্রী নয়। তবে খারাপ বললেও ভুল হবে। বইটা খুলে পড়া শুরু করলো সারা। আজ দুইদিন পর তাদের স্কুল খুলেছে। এতদিন কি যেনো একটা সরকারি বন্ধ ছিলো। বন্ধটা যেহেতু মাত্র দুই দিনের যার জন্য এতদিন আর এই একাডেমিক বই হাতেও ধরেনি সে।

দুই ঘন্টা পড়তে পড়তে না পড়তেই ক্রিংক্রিং করে তার গড়িতে এলার্ম বাজতে শুরু করলো। কলেজ যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। ঘড়িতে বাজে ছয়টা ত্রিশ মিনিট। ছয়টা পয়তাল্লিশ মিনিটের মধ্যে বাস স্টেশনে থাকতে হবে। সেখানে তার জন্য প্রতিদিন অপেক্ষা করে তার একমাত্র বান্ধবি ঝর্না। তারা দুইজন একই প্রকৃতির মানুষ। তাই দুজনের মাঝে বেশ ভাব। তারা সেখান থেকেই একসাথে কলেজের জন্য রওয়ানা হবে দুইজন। কারণ সাড়ে সাতটা থেকে ক্লাস। রুহামা চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়াতেই দরজার ওপারে জাফর রহমানকে দেখতে পেলো দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়। হাতে খয়েরী রঙের কাগজে মোড়ানো মোটা একটা প্যাকেট। মেয়ের চোখে চোখ পড়তেই রুহামা বাবাকে সালাম দিলো। বাবাও সালামের উত্তর নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইলে রুহামা মাথা নাড়িয়ে সায় দেয়। বাবা মেয়ে বিছানার উপর বসে। জাফর রহমান হাতে থাকা জিনিসটি মেয়েকে দেখানোর জন্য এগিয়ে বলে,

– দেখ কি এনেছি।
রুহামাও আগ্রহ নিয়ে প্যাকেটটা হাতে নেয় এবং অনেক চেষ্টার পর খুলে দেখে কিছু বই সমগ্র। বেশ কিছুদিন আগেই বাবার কাছে সে বায়না করেছিলো যাতে বইগুলো তাকে কিনে দেওয়া হয়। আর বাবাও হুট করে তার আবদারটা পূর্ণ করে দিলো। এজন্যই মেয়েরা বাবাকে নিজের সুপার হিরো ভাবে। কারণ মেয়ের বিপদে আপদে, শখ পূরণের ক্ষেত্রে সবসময় বাবাকেই পাওয়া যায়। সে বাবা মানুষ হিসেবে যেমনটি হোক মেয়ের কাছে আসলে বাবারা একদম সুপারম্যান হয়ে যায়। বই গুলো খানিক্ষন উল্টিয়ে দেখতে লাগলো রুহামা।

সম্ভবত তার মাথা থেকে কলেজের কথা চলে গেছে কয়েকটা বই উল্টিয়ে দেখতেই কথা মনে পড়লো। ঘড়িতে তখন ছয়টা চল্লিশ মিনিট। এতক্ষণে বাবা বইগুলো দিয়ে চলে গেছে। রুহামা উঠে ফ্রেশ হয়ে বোরকা পরে নিলো। মা সারা বেগম নাস্তা খাওয়ার জন্য কয়েকবার ডেকেছিলো কিন্তু সময় যে নেই। তাই মাকে বুঝিয়ে সুজিয়ে সে বেড়িয়ে পড়লো।

কখনো কখনো আকাশকে মনের সাথে মাপতে ইচ্ছে করে। আকাশ যেমন এই বৃষ্টি এই রোদ্দুর, মনটাও ঠিক তেমনই কখনো ভালো তো কখনো বিষণ্ণ। মানুষের মনতো দেখা যায় না – আকাশকে মনের সাথে মিলিয়ে মনকে বোঝার মাঝে আলাদা একটা মজা আছে। আবার মনকে আকাশের মত করবার ঈর্ষাও জাগে মনে। আচ্ছা জানেন আকাশ কেন এত সুন্দর?
কারণ এক আকাশের উপর আরও ছয়টি আকাশ আছে আর সবমিলিয়ে এই সাত আকাশের উপর আমার রব আছে। তাই আমরা সবাই আকাশের উপর এমনভাবে আকৃষ্ট; মন খারাপে আকাশ দেখি, মন ভালো হলে আকাশ দেখি। আবার আকাশের দিকে তাকিয়ে দুয়া করলে সেই দু’আও কবুল হয়। তাই আমরা যদি সর্বক্ষণ রবকে স্মরণে রাখি আমাদের মনটাও আকাশের মত সুন্দর হয়ে যাবে। আর যার কাছে সুন্দর মন আছে তার আর কি লাগে?

রুহামাদের ঘর থেকে বাসস্ট্যান্ড বেশি দূরে না হলেও পায় হেটে গেলে বেশ সময় লাগে। বাসস্ট্যান্ড অবদি পৌছুতে ছয়টা পঞ্চাশ বেজে যায়। রুহামার জন্য অপেক্ষা করতে করতে ঝর্না রীতিমতো চিন্তায় পরে গেছে। কারণ রুহামা প্রতিবারই একদম বরাবর ঠিক টাইমে এইখানে উপস্থিত হয়। একপ্রকার আর অপেক্ষা সহ্য করতে না পেরে ঝর্না ব্যাগ থেকে মোবাইলটা বের করলো রুহামার বাসায় ফোন দিবে বলে। রুহামার হাতে ফোন নেই সে জানে। ফোনের উপর সে তেমন আগ্রহী নয়।

আবার স্কুলে ফোন নেওয়াটাও বিপদজনক। কোনপ্রকার ফোনের উপর আসক্ত হয়ে পড়লে স্কুল টাইমটা ফোন বিহীন কাটতে চাইবে না। ঝর্না ফোন বের করতে না করতেই রুহামা উপস্থিত। ঘনঘন নিশ্বাস ফেলছে রুহামা। সম্ভবত দ্রুত গতিতে হেটে আসার জন্য এমন অবস্থা। রুহামা ঝর্নাকে দেখে সালাম দিলো। ঝর্না সালামের উত্তর দিয়ে রুহামার উদ্দেশ্যে বলল,
– এতো দেরি কেনো আজ? আমি বেশ চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম।
রুহামা ফুসসস করে লম্বা একটা নিশ্বাস ফেলে ঘনঘন নিশ্বাসের সমাপ্তি ঘটিয়ে বলল,
– বোন আজকাল সময়ের খেয়াল থাকে না। দু’একটা পৃষ্ঠা উল্টোতেই সময় কখন ফুরিয়ে যায় টের পাওয়া যায় না।

ঝর্না একটু ব্রু কুঁচিয়ে দাঁত কেলিয়ে বলল,
– এবার বুঝছি। বোন শুন তোকে একটা বুদ্ধি দেই। বই পড়তে হলে একাডেমিক বই পড়বি বেশি। তাহলে সময়ের বরকত হবে। আমিতো এক ঘন্টা একাডেমিক বই পড়লে ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি দশ মিনিট গেলো মাত্র।
ঝর্নার কথা শুনে রুহামা ফিক করে হেসে দিলো। হাসলে রুহামার গালে টোল পড়ে। চোখ গুলোও হাসে। তবে বোরকা আর নিকাবের আড়ালে সেটা কারো চোখে পড়ে না। এক মিনিট চুপ থেকে রুহামার হাসির সাথে তাল মিলিয়ে হেসে দিলো ঝর্নাও। তারপর বাস আসলে দুইজন মিলে রওয়ানা হলো স্কুলের উদ্দেশ্যে।

চাকরির ইন্টার্ভিউ দিতে এসেছে রেদোয়ান। শ্যামলা চেহারার সাথে তৈলাক্ত মুখ, চোখেমুখে চিন্তার ছাপ। গালে সুন্নতি দাড়ি। বয়স পঁচিশ তবে দেখতে ত্রিশ বছরের কম মনে হয়না। তার একমাত্র কারণ হচ্ছে দাঁড়ি। অনার্স শেষ করে এবার একটা চাকরি খুঁজছে রেদোয়ান। মাস্টার্সটা চাকরির পাশাপাশি কমপ্লিট করবে এটাই তার ভাবনা। কিন্তু কোনভাবেই চাকরিটা জুটছে না। ঘরে বয়স্ক বাবা-মা। যদিও টিউশনি আর কোচিং করিয়ে কিছু আয় হয়। আর বাকিটা বাবার পেনশনের টাকায় হয়ে যায়। তবুও বাবা-মায়ের দায়িত্বটা এখন সে নিজে নিতে চায়। আর তার জন্য একটা পার্মানেন্ট চাকরি দরকার। তাই এত ছুটাছুটি। কিন্তু সার্টিফিকেটে সবকিছু ঠিকটাক থাকলেও মামা খালুর সুপারিশ না থাকলে এই জেনারেশনে চাকরি পাওয়া মুশকিল।

ক্লাস শেষ করে দুই বান্ধুবি পুনরায় হাটা ধরলো বাসস্ট্যান্ডের দিকে। পাঁচ মিনিট হাটার পরে তারা পৌঁছেও গেলো। বাস এখনো আসেনি তাই দুইজন সেখানটায় দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। দূরে কিছু বখাটে ছেলে তাদের দিকে একটু পর পর তাকিয়ে খুটখুট করে হাসছে যেটা রুহামার চোখের পড়েছে কি-না বোঝা যাচ্ছে না কিন্তু ঝর্নার ঠিক চোখে পড়েছে। সেই ব্যাপারটা রুহামাকে জানায় ঝর্না জবাবে সে বলে, সে এই ব্যাপারে আগেই খেয়াল করেছে তবুও সে চুপ ছিলো কারণ কিছু বলতে গেলে বিপদ আরও বাড়তে পারে। রুহামার কথা শুনে ঝর্না একটু শান্ত হলেও বখাটে ছেলেরা আগের মতই তাদের মনমতো হাসাহাসি আর উদ্ভট কথাবার্তা বলেই যাচ্ছিলো।

তাদের বলা কিছু কথা ঝর্নার কানে পৌছালো তারা রুহামা এবং ঝর্নাকে জীবন্ত তাবু বলে হাসাহাসি করছিলো। ঝর্নার একেবারে অস্থিরতা অনুভব হচ্ছিলো। পারছিলো না সেই বখাটে ছেলেদের গিয়ে ঠাটিয়ে একটা চড় বসিয়ে দিতে। কিন্তু অন্যদিকে রুহামাকে একদম স্বাভাবিক লাগছে কিভাবে তা ভেবে পাচ্ছে না ঝর্না। আসলে মনে মনে ইস্তেগফার পাঠ করতছে রুহামা। সাথে আল্লাহর কাছে এই দুষ্টু লোক গুলো থেকে পানাহ চাইছিলো এবং তাদের জন্য হেদায়েত চাইছিলো। ঠিক তখুনি বাস এসে পড়ে। সাথে সাথে মুচকি হাসি হেসে উঠে রুহামা এবং আল্লাহকে ধন্যবাদ জানায়।

অন্যদিকে ইন্টার্ভিউ ভালো হওয়া সত্বেও চাকরিটা হলো না রেদোয়ানের। তাই মনটা ভীষণ খারাপ। হাতে সার্টিফিকেটের ফাইল নিয়ে খালি পায় হাঁটতে থাকে রেদোয়ান। এই দুনিয়ায় টাকা না থাকলে সূর্যের আলোও আগুনের নেয়ে তাপ দিয়ে পুরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে। রেদোয়ানের বেলায়ও ভিন্ন কিছু হচ্ছে না। রেদোয়ান প্রতিবার চাকরির ইন্টার্ভিউ দিতে যাওয়ার সময় রেদোয়ানের মা তাকে প্রাণ ভরে দুয়া করে দেয়। আর তার ফেরা অবদি বারান্দায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে। ঠিক যখন তাকে দূর থেকে বারান্দা দিয়ে দেখতে পায় ছুটে এসে ঘরের গেটের সামনে আসে। আর উৎফুল্ল হয়ে হেসে জিজ্ঞেস করে “চাকরি হয়ে গেছে বাবা?

জানিস আমি আল্লাহকে বারংবার বলেছি, এই চাকরিটা যদি আমাদের জন্য কল্যাণকর হয়ে থাকে তবে যেনো তিনি এই চাকরি তোকে মিলায়ে দেয়।” কিন্তু রেদোয়ান প্রতিবার তার হাসিমুখে করা প্রশ্নের উত্তরে হাসি মুখে জবাব দিতে পারে না। মা কষ্ট লুকিয়ে বলে, “হয়তো এই চাকরি আমাদের জন্য কল্যাণকর নয়। কষ্ট পাস না বাবা আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী।” আজও হয়তো মা অপেক্ষা করে দাড়িয়ে আছে বারান্দায় ভাবতেই রেদোয়ানের চোখ বেয়ে একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো। যা বুকে বা পাশটা তোলপাড় হয়ে গেলেও চোখের জলটা ঘামের সাথে মিশে গেলো কোনটা চোখের পানি আর কোনটা ঘাম তা বুঝার উপায় নেই।

বাসায় ফিরে তড়িঘড়ি করে যুহরের নামাজটা আদায় করে নেয় রুহামা। এইতো কিছুক্ষণ আগেই রব কতবড় সর্বনাশ হওয়া থেকে বাঁচিয়েছেন তাকে। যার জন্য রবকে ধন্যবাদ না দিলেই নয়। নামাজ শেষ করে খানিক্ষন জায়নামাজে বসে থাকতে ভালো লাগে। যেনো জায়নামাজে আলাদা একটা প্রশান্তি পাওয়া যায়। কারণ ‘নামাজ শেষে আমরা যতক্ষণ জায়নামাজে বসে থাকি ফেরেস্তারা ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের জন্য সওয়াব লিখতেই থাকে’ সুবহানাল্লাহ

অথচ আমরা এই বিষয়টাতে অনিহা দেখাই। নামাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই যেনো জায়নামাজ ছাড়তে আমরা অস্থির হয়ে পড়ি। যাইহোক ঘড়িতে বাজে তিনটা রুহামার বাবা একঘন্টা হলো অফিস থেকে ফিরেছেন। রুহামা আসবে, নামাজ পড়বে তারপর সবাই একসাথে দুপুরের খাবার খাবে। তাই তিনিও এখনো খাননি। রুহামা এখনো একইভাবে জায়নামাজে বসে আছে। ঠিক তখুনি তার রুমে প্রবেশ করলো তার বাবা। আব্বুকে দেখে রুহামা উঠে দাঁড়ায়।

জায়নামাজটা হাতে নিয়ে ভাজ করতে করতে বাবার উদ্দেশ্যে বলে,

– দুপুরের খাবার খেয়েছো বাবা? (যদিও সে জানে বাবা তাকে ছাড়া কখনো একবেলা ভাত খায়নি। তবুও জিজ্ঞেস করলো। হয়তো বাবার মুখে তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্য। বাবা যখন বলে, আম্মু আমিকি তোকে ছাড়া কখনো খেয়েছি? তখন যেনো রুহামার ভীষণ খুশি লাগে। আর রুহামাও প্রতুত্তরে বাবার মা হওয়ার চেষ্টা করে একটু শাসন করে দেয়। – আমি না তোমাকে বলেছি আমার জন্য অপেক্ষা না করতে? ডায়বেটিস বেড়ে গেলে আমাকে আম্মু বলে কে ডাকবে শুনি? মেয়ের শাসনের প্রতুত্তরে বাবা মুচকি হেসে দেয়। যেনো সত্যি উনার মা তাকে শাসন করছে।)

রুহামার কথার প্রতুত্তরে বাবা যা উত্তর দিবে সে ভেবেছিলো ওটাই বলল। তারপর শুরু হলো মেয়ে হয়ে বাবার মা সেজে শাসন করার গল্প।

বরাবরের মতোই মুখ মলিন করে ঘরে ফিরলো রেদোয়ান। খানিকটা দূরে মা দাড়িয়ে আছে। চোখে হাজারটা চিন্তা। কে জানে! কত রাত নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাননি তিনি। চোখের নিচে কালি দাগ পড়েছে। শরীরের চামড়া কুঁচকে গেছে। গায়ের বরণ সাদা হলেও চিন্তার ভারে তা ফ্যাকাসে আকার ধারণ করেছে। রেদোয়ান ঘরে প্রবেশ করতে করতেই মা আয়শা বেগমকে সালাম দিলো। মাও সালামের উত্তর দিয়ে সেই চেনা প্রশ্ন ছুড়লো।

অতঃপর উত্তর পেয়ে দুজনের মাঝেই নিরবতা। তার মাঝে হুট করেই মা বলে উঠে, হয়তো এটাও আমাদের জন্য কল্যাণকর ছিলো না। “আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী” মায়ের কথায় রেদোয়ান যেনো আবারো যুদ্ধ করার মত শক্তি পায়।

বিকেল চারটা বাজে আর কিছুক্ষণ পর আছরের আজান দিবে। বারান্দায় গ্রীল ধরে দাঁড়িয়ে আছে রুহামা। বাহিরে টিপটিপ বৃষ্টি। কিছুক্ষণ পর সে বৃষ্টির ফোঁটা ছুঁয়ে মনে মনে বিরবির করে কি যেনো বলে। সে বারান্দায় একাই দাঁড়িয়ে আছে তবে একা হয়েও কার সাথে যেনো কথা বলছে। নিজের চাওয়া না-চাওয়া সবটা কাকে যেনো খুলে বলছে। কারণ সে জানে বৃষ্টি ছুঁয়ে যাই চাওয়া হয় তা পাওয়া যায়। তাই সে এই সুবর্ণ সুযোগ হাত ছাড়া করতে চায় না কোনভাবেই না।

অন্যদিকে বিছানার উপর অর্ধেক পড়া খোলা বই উল্টো করে রাখা। বই ফেলে সে প্রকৃতি দেখতে ব্যস্ত। আর কখন যে আছরের আজান দিয়ে ফেলে সে বুঝতেও পারেনি। নামাজ শেষে রুহামার পাশে এসে বসে তার মা সারা বেগম। তখন সে বসে তাসবিহ গুনছে। মায়ের হাতেও তখন তাসবিহ ছিলো। মা কিছুক্ষণ পর পর দুয়া পড়ে মেয়ের মাথায় ফুক দিয়ে দিচ্ছেন, মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। যা রুহামার ভীষণ ভালো লাগে। মায়ের দেওয়া প্রতিটা ঝাড়ফুঁকের সাথে যেনো তার প্রতিটা মন খারাপ আর ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।

রুহামার তাসবি পড়া শেষ করে মায়ের দিকে ঘুরে বসলো। মনে হচ্ছে মা কিছু একটা বলতে চাইছে। রুহামার মায়ের বলার অপেক্ষা না করে নিজেই জিজ্ঞেস করলো।
– কিছু বলবা আম্মু?
সারা বেগম মুচকি হেসে বলল,
– কালকে কত তারিখ বলতো?
রুহামা কিছুটা চিন্তার ভঙ্গিতে বলল,
– কত আবার পঁচিশ!

সারা বেগম কিছুটা খুশির কান্নার ভাব করে লম্বা একটা নিশ্বাস নিয়ে বলল,
– হ্যাঁ। কালকে প্রথমবার তোকে আমি কোলে নেই। তোর ছোটছোট হাত, পা সব আমি ধরে ধরে দেখছিলাম। কতটা অপেক্ষার পর তোকে পেয়েছি আমি। কত দুয়া, কত চেষ্টা তারপর তোকে পেয়েছিলাম। দশটা বছর অপেক্ষা করেছি ভাবতে পারিস। এখন দেখতে দেখতে তুই কত বড় হয়ে গেলি। বলতে বলতেই মা শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে লাগলো। হঠাৎ করে রুহামাও নিরব হয়ে গেলো চোখ বেয়ে পানি পড়ছে তার। তার কারণ মায়ের বলা গল্প নয়। তার কারণ কাল তার জন্মদিন। মৃত্যুর আরও একটা বছর অতিক্রম করে ফেলেছে সে। আল্লাহই জানে কখন তাকে আসমানের মেহমান হয়ে যেতে হয়। হ্যাঁ দুনিয়া চিরস্থায়ী ঠিকানা নয়। তবে দুনিয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা তাকে যার জন্য পাঠিয়েছে সে ওই কাজে সফল হতে পেরেছে? কতটুকই বা পেরেছে। এই দুনিয়াবি জীবনে পাওয়া না-পাওয়ার হিসাব কষতে কষতেই দুনিয়া ফুরিয়ে গেলো।।

“সবাই জানে আমাদের জীবনটা অনেক ছোট। এবং তারা এই ছোট জীবনে তার শখ আহ্লাদ পূর্ণ করতে ছুটোছুটি করে। মানুষকি বুঝে-না তার শখ আহ্লাদ মৃত্যুর কাছে আসলে মরিচিকা হয়ে যাবে?
মানুষ জানে জীবন হচ্ছে দুই প্রহরের, তবে মানুষ সেটা করে না যে কাজে তাকে দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছে।”

একতলা ছাদ, আশেপাশে কয়টা গাছগাছালি যা বাতাসের তালে দোল খাচ্ছে। ছাদের একেবারে কর্ণারে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রেদোয়ান। মনের অন্তরালে তার হাজারো আত্মকথা, বুকটা কেমন ভার লাগছে তার। সম্ভবত তার যায়গায় কোনো মেয়ে হলে এতক্ষনে বুক চাপরে কাঁদতো। কিন্তু ছেলে হওয়াতে তার বুকের ভার বুকেই জমিয়ে রাখতে হচ্ছে। ভেঙে পড়লে চলবে না তার দিকে তাকিয়ে হাসে এবং ভালো থাকে আরও দুইটি মুখ অন্তত তাদের জন্য হলেও তাকে শক্ত হতে হবে। লড়াই করতে হবে একমাত্র তাদের জন্যই। যেভাবে তারা রেদোয়ানকে মানুষ করেছিলেন ছোটবেলা থেকে। হঠাৎ রেদোয়ানের কাঁধে কারো কাঁপা হাতের ছোঁয়া পেলো সে। পেছনে ফিরতেই দেখতে পায় বাবা ফরিদ আহমেদকে।

বাবা তার মতো একদম শক্ত মস্তিষ্কের মানুষ। উনাকে কখনো কাঁদতে দেখা যায়না। এইযে রেদোয়ানের এত ছুটাছুটি এতেও উনি একবার কাছে এসে বলে না এবার থাম। উনি উনার কাজে এবং ভাব ভঙ্গিতে এটাই বুঝাতে চায় থেমে থাকলে চলবে না কোনভাবেই। একদিন থামলে ওই দিনের জীবন কেউ তোকে দয়া করে পাড় করে দিবে না। ছোট বড় যা কাজ করা যায় করবি যতদিন শরীরে শক্তি আছে। তবে আজ বাবা হুট করে তার মুখোমুখি হয়ে কেনো দাঁড়ালো? রেদোয়ান বাবার চোখের দিকে একবার তাকিয়ে পুনরায় চোখ নামিয়ে নিলো। বাবাকে খুব সম্মান করে তাই হয়তো।

হুট করেই বাবা বিড়বিড় করে বলে উঠলেন,
– দায়িত্ব নেওয়াটা অনেক কঠিন তাইনা রে বাবা?

বাবার হঠাৎ এমন কথায় চমকে উঠলো রেদোয়ান। রেদোয়ানের কোনো কাজে কি বাবা কষ্ট পেয়েছে?
রেদোয়ান কোনভাবেই চায়না তার কষ্টটা কারো সামনে প্রকাশ পাক। বিশেষ করে বাবা মার সামনে তো মোটেও না। বাবার আজ এমন প্রশ্নের উত্তরে রেদোয়ান কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না। বাবা রেদোয়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে পুনরায় বললেন,
– দায়িত্ব কি জিনিস এই বাবা বুঝি রে। বাবাও এই সময়টা পাড় করে আসছি। যদিও এই জীবন ওই জীবন সামান্য ফারাক ছিলো। তবে দায়িত্ব তো দায়িত্বই। এই দায়িত্ব নিতে বুকে ব্যথা লাগে, ভেঙে পড়তে ইচ্ছে করে, কান্না আসে তবুও কাউকে বুঝতে দেওয়া যায় না। দায়িত্ব মানে শুধুই ভরনপোষণের দায়িত্ব না তাদের হাসি এবং ভালো রাখার দায়িত্বটাও নিতে হয়। আমি বুঝি বাবা সব বুঝি। তখন আমার পাশে কেউ ছিলো না। তাই বলে যে তোর পাশেও আমি থাকবো না এমনটা ভাবিস না। এই আব্বা আজীবন তোর পাশে আছি। যখনই মন খারাপ হবে আব্বার কাছে আসবি। আর কিছু না পারি, মানসিক শান্তিটা দিতে পারবো কেমন?

রেদোয়ান বাবার দিকে একপলক তাকালো তারপর আচমকা বাবাকে জড়িয়ে ধরলো। মাঝে মাঝে শক্ত মানুষটা সন্তানের দুঃখ দেখলে গলে পানি হয়ে যায়। আজ ফরিদ আহমেকে দেখলে বেশ বোঝা যাচ্ছে। বাবাকে জড়িয়ে ধরতেই রেদোয়ানের চোখ বেয়ে অবাধ্য অশ্রুরা গড়গড় করে বেড়িয়ে পড়লো। ফরিদ আহমেদ কিছুক্ষণ ছেলের পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে তাকে শান্তনা দিলেন। রেদোয়ানও আপ্রাণ চেষ্টা করছিলো নিজের অশ্রুদের থামানোর জন্য। তারপর ফুস করে লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কান্নার সমাপ্তি ঘটালো সে।

বাবা ছেলেকে বুক থেকে ছাড়িয়ে পুনরায় মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
– তুই এক কাজ কর আগামী সপ্তাহে রবিবার চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হ। সেখানে আমার একটা বন্ধু আছে কয়দিন ওখানেই থাকিস। দেখ কোনো একটা ব্যবস্থা হয় কি-না। আর না হলেও সমস্যা নেই অন্তত সেখান থেকে ঘুরে এসে তোর ভালো লাগবে। আর আমার বন্ধুটাকেও একটু দেখে আসলি। খুব ভালো বন্ধু আমার মানুষটাও ভীষণ ভালো। নাম জাফর রহমান। স্কুল লাইফ থেকে কলেজ লাইফ পর্যন্ত আমরা একসাথেই পড়াশোনা করেছি। কিন্তু ভার্সিটির বেলায় ভাগ্য দুজনকে দুই জেলায় পাঠিয়ে দেয়। এরপর মাঝে মাঝে বছরে এক দুইবার ফোনে আলাপ হয় তবে আর দেখা হয়নি।

রেদোয়ানের মন কিছুটা ভালো লাগছে এখন। রেদোয়ান বাবার কথায় সায় জানালো।
সারা বেগম আর রুহামা একসাথে এখনো জায়নামাজে বসে আছে। রুহামার মনটা একটু খারাপ হয়ে গেছে তার জন্মদিনের কথা শুনে। মা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর রুহামা মায়ের বুকে হেলান দিয়ে বসে আছে। ঠিক তখুনি সেই রুমে প্রবেশ করলো জাফর রহমান। জায়নামাজের মুখ বরাবর খাট। সেই খাটের উপর এসে বসলেন তিনি। বাবাকে দেখে রুহামা মায়ের বুক থেকে মাথা উঠিয়ে বসলো। বাবার চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখলো বাবাকে কেমন খুশিখুশি লাগছে তবে এই খুশির কারণ কি হতে পারে সেটা ভেবে পাচ্ছে না রুহামা। সারা বেগমও ঠিক একই কথা ভাবছে মনে হচ্ছে অনেক অনেক বছর পর জাফর রহমানকে এত খুশি হতে দেখেছেন সারা বেগম। রুমাহা আর সারা বেগম জায়নামাজ ছেড়ে উঠলো।

কিন্তু জাফর রহমান খুশির কথা কেউ জিজ্ঞেস করছে না বলে তিনি নিজেই বলে উঠলেন,
– আজকে আমি অনেক খুশি আলহামদুলিল্লাহ
জাফর রহমানের মুখে আলহামদুলিল্লাহ শুনে স্ত্রী এবং মেয়ে দুজনেই আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠলেন।

তারপর সারা বেগম বলে উঠলেন,
– তবে আজকে এত খুশির কারণ?
– আর বলো না আমার ছোটবেলার বন্ধু ফোন করেছিলো। ওই যে ফরিদ।

– হ্যাঁ জানি আপনার একমাত্র ছোটবেলার বন্ধু ওই ফরিদ আহমেদ ভাইয়ের কথাই বেশি শুনেছি। তা উনি বছর ছয়মাসে তো ফোন করেই। কিন্তু আগে তো আপনাকে এত খুশি দেখিনি!

– আরে খুশিতো হয়েছি ফোন পেয়ে নয় খুশি হয়েছি তার বলা কথায়। সামনের সপ্তাহে রবিবার তার ছেলেকে নাকি আমাদের চট্টগ্রামে পাঠাবে। আমি না একবার চিঠির সাথে ছেলের ছোটবেলার ছবি দেখেছিলাম তবে সামনা-সামনি দেখিনি। ছেলে পুরো আমার বন্ধুর মতই হয়েছে। এবার সামনা-সামনি দেখবো।

– তা ছেলে কি একা আসবে নাকি আপনার বন্ধু সহ? তবে কিন্তু ভাবিকেও নিয়ে আসতে বলবেন।

সারা বেগমের কথায় এবার জাফর রহমান মুখটা মলিন করে বলল,
– আমিও এটাই বলে ছিলাম কিন্তু বন্ধু আর ভাবি বয়স হয়েছে তো অসুস্থ। তাই আসবে না। ছেলেকে পাঠাবে। সম্ভবত চাকরির খোঁজে আসবে।
– ও আচ্ছা।
– হ্যাঁ হ্যাঁ আমার অনেক বাজার করতে হবে। আমার বন্ধুর ছেলের জন্য ভালো রান্না করবে কিন্তু ঠিক আছে? খুব ভালো লাগছে আজ।

বলতে বলতে জাফর রহমান উঠে চলে গেলেন রুম থেকে। রুহামা এতক্ষণ বাবার দিকে তাকিয়ে ছিলো। বাবা কেমন খুশিতে বাচ্চাদের মতন পারছে না লাফাতে। বয়স তেমন হলে হয়তো তাই করতো। যাইহোক বাবাকে খুশি দেখতে রুহামারও ভীষণ ভালো লাগে। রুহামা মনে মনে দু’আ করতে লাগলো। আল্লাহ বাবার খুশিতে বারকাহ্ দিক। ফি আমানিল্লাহ।

দেখতে দেখতে রবিবার ঘনিয়ে এলো। রেদোয়ান শনিবার রাতের ট্রেনে করে রওয়ানা দেয় তারপর পৌঁছায় রবিবার সকাল ছয়টায়। কলিংবেল বাজতেই রুহামা পড়ার টেবিল থেকে উঠে দরজা খুললো। তারপর রেদোয়ানকে দেখেই দরজা ছেড়ে এক ছুটে নিজের রুমে চলে গেলো।

তখন কুয়াশা মাখা ভোর। শান্তশিষ্ট শহরটা আস্তে আস্তে কোলাহলে পরিনত হচ্ছে। ব্যস্ত মানুষ যান্ত্রিক শহরের যানজট ছাড়িয়ে তাদের ব্যস্ত গন্তব্যের দিকে রওয়ানা হচ্ছে। সেই ব্যস্ত যানজট অতিক্রম করে ঠিক সকাল ছয়টায় রুহামাদের ঘরের দরজায় কড়া নেড়েছিলো রেদোয়ান। কিন্তু হলো কি?
কেউ একজন দরজা খুলে প্রবেশ করার অনুমতি না দিয়েই নিজ রুমে ছুটে চলে গেলো। এখন কি রেদোয়ান ঘরে প্রবেশ করবে, নাকি দাড়িয়ে থাকবে তাই ভেবে পাচ্ছে না। এদিকে দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে সবটা পর্যবেক্ষণ করছে রুহামা। বাহ্ মানুষটাতো বেশ সভ্য নিজ ইচ্ছায় অনুমতি বিহীন ঘরে প্রবেশ ও করছে না। না না এনাকে এতক্ষণ দাঁড়া করিয়ে কষ্ট দেওয়া ঠিক হবে না।

কিন্তু উনার সামনেও তো যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না। এমনিতেই প্রস্তুতি না নিয়ে নন-মাহরামের সামনে নিকাব ছাড়া মুখোমুখি হয়ে গেছে রুহামা। মাথা ই ছিলো না আজ ঘরে মেহমান আসবে। নয়তো এভাবে নিজে গিয়ে দরজাও খুলতো না। আর খুললেও নিকাব পরে তারপর যেতো। ভাবতে ভাবতে আরও পাঁচ মিনিট পেরিয়ে গেলো রুহামার পুনরায় ঘোর কাটলো। ইশ! মানুষটা এখনো দাঁড়িয়ে আছে কি করা যায়?

রুহামা গলা ঝেড়ে নিলো। মুখে কাপড় দিয়ে চেষ্টা করলো কন্ঠ পরিবর্তন করার তারপর ওভাবেই রেদোয়ানের উদ্দেশ্য কর্কশ গলায় বলল, – দাঁড়িয়ে থাকবেন না ভেতরে আসুন।

কি জানি রেদোয়ানের কানে কথা গুলো পৌঁছালো কি-না। রেদোয়ান এবার দরজা ঠেলে ঘরে প্রবেশ করলো। রুহামার কথা তাহলে রেদোয়ানের কানে গেছে। ভাবতেই রুহামা মুচকি হাসলো। রেদোয়ান স্পষ্ট ভাবে সালাম দিয়ে ঘরে প্রবেশ করলো। যদিও তখন তার আশেপাশে কেউ ছিলো না। তবে রেদোয়ান সালাম দিলো মানুষ না শুনলেও ফেরেস্তারা তো শুনবে; এই ভেবে। ততক্ষনে রুহামা পুনরায় পড়ার টেবিলে বসে পড়েছে। এর মাঝে নিচু স্বরে সেও সালামের উত্তর দিলো। রেদোয়ানের সালাম শুনে রুম থেকে বের হলেন জাফর রহমান। তিনি বুঝতে পেরেছেন রেদোয়ান হয়তো চলে এসেছে। রুম থেকে বের হয়ে রেদোয়ানকে সোফার উপর দেখতে পেয়ে উনার মুখে হাসি ফুটলো। মুখে হাসি রেখে উৎফুল্ল কণ্ঠে রেদোয়ানের আগে তিনিই সালাম দিয়ে উঠলেন তারপর দুজন মিলে কুশল বিনিময় করলেন।

– তারপর বলো রেদোয়ান তোমার আব্বা কেমন আছে? কতবার করে বললাম তোমার সাথে যেনো তারাও আসে কিন্তু আসলোই না।
রেদোয়ান মুখে হাত দিয়ে একপাশে আড়াল হয়ে কাশলো। সম্ভবত বাহিরের ধুলাবালির জন্য কাশি হচ্ছে।

তারপর বলল,
– জ্বি আব্বা তো অসুস্থ সাথে আম্মাও তাই আসেনি। আর আমি আর আব্বা একসাথেই কখনো ঘর একা করে যাই না। আম্মা একা কিভাবে থাকবেন এই জন্য। ইনশাআল্লাহ আমার একটা চাকরি হয়ে যাক। আব্বাকে আপনার সাথে অবশ্যই দেখা করাবো। দু’আ করবেন একটা চাকরির জন্য খুব ছুটাছুটি করছি। কিন্তু কোনভাবেই ভালো একটা চাকরির ব্যবস্থা করতে পারছি না।

জাফর রহমান রেদোয়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
– আল্লাহ তোমার সহায় হোক বাবা। তো দূর থেকে এসেছো হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও। তোমার চাচিকে বলছি তোমার জন্য নাস্তা তৈরি করতে।
রেদোয়ান জাফর রহমানের কথায় মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো তারপর মুখ হাত ধুয়ে অযু করে নিলো। রেদোয়ান সবসময় অযু করে পাক পবিত্র থাকতে পছন্দ করে।

বরাবরের মতই ছয়টা ত্রিশ মিনিট হতেই রুহামা বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। সেখানে ঝর্না তার জন্য অপেক্ষা করছে। প্রতিদিন তার হাটার অভ্যাস তাই হেটেই যাচ্ছে। রাস্তায় ভালোই মানুষের কোলাহল। কেউ অফিসে যাচ্ছে, কেউ স্কুলে, কেউ জীবন নির্মাণে অজানা যুদ্ধের খোঁজে তো কেউ ছোট খাটো সব যুদ্ধেই অংশগ্রহণ করে জীবন চালানোর চিন্তায় নেমেছে। কেউ থেমে নেই। কেউ কারো অপেক্ষায় নেই। সবাই সবার মত ব্যস্ত। তাইতো এই দুনিয়ার নাম ব্যস্ত দুনিয়া।

হাটতে হাটতে ছয়টা পয়তাল্লিশ মিনিটে রুহামা বাসস্ট্যান্ডের সামনে এসে দাঁড়ালো। আর একপা দুইপা গেলেই সামনে ঝর্না দাঁড়িয়ে আছে। এই একপা দুপা সে আস্তে আস্তেই গেলো। ক্লান্ত লাগছে বাস এখনো আসেনি। ঝর্ণার কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই সে সালাম দিলো। রুহামা স্পষ্ট ভাবে সালামের উত্তর দিলো। আজকেও বাসস্ট্যান্ডের ঠিক একই যায়গায় বখাটে ছেলেরা দাঁড়িয়ে আছে ইশারা করে রুহামাকে দেখালো ঝর্না। রুহামা ঝামেলা পছন্দ করে না তাই মুখের কাছে আঙুল দিয়ে চুপ থাকতে বলল তাকে। মাঝেমাঝে চুপচাপ থাকাটাই হয় বিপদের সমাধান। তাই প্রথমত নিরবতা থেকেই সমাধান খোঁজা উচিৎ। আর তারা যতক্ষন আমাদের শারীরিক ভাবে বিরক্ত না করছে- ততক্ষন না শোনার ভান করে থাকাই উত্তম হবে। আর আল্লাহ চাহেন তো একদিন তারাও হেদায়েত প্রাপ্ত হবে। তারপর অনুতপ্ত হয়ে সবার কাছে ক্ষমা চাইবে নয়তো তাদের রবের কাছে ক্ষমা চাইবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দিবেন। কারণ তওবাকারীকে আল্লাহ ফিরান না।

প্রতিদিন বাস আসে ছয়টা পঞ্চাশ মিনিটে কিন্তু এখনো এলো না। সময়তো সেই কখনই হলো। হঠাৎ কারো পায়ের শব্দ ভেসে আসে রুহামার কানে যেনো এইদিকটা আসছে তবুও সে ওইদিকে খেয়াল দিলো না। বাসস্ট্যান্ডে কত মানুষই আসা যাওয়া করে সব দিকে কি তাকালে চলবে! রুহামা তাকিয়ে আছে নিজের হাতের দিকে কারণ সে গুনে গুনে তসবিহ পড়ছে।

হঠাৎই আঙুল দিয়ে রুহামার হাতে গুতো দিলো ঝর্ণা হুট করে রুহামা কিছুটা চমকেও উঠেছে। ঝর্ণার দিকে তাকাতেই ঝর্না তার একহাত চেপে ধরে দাঁড়ালো। মনে হচ্ছে সে ভয় পাচ্ছে। ঝর্নার চোখের দিকে তাকাতেই সে ইশারা করে বখাটে ছেলেগুলোর দিকে ইশারা করলো। তারা রুহামা আর ঝর্নার আগে থেকে অনেকেটা কাছে এসে দাঁড়িয়েছে যেনো তারাও বাসের অপেক্ষায়। কিন্তু তাদের মনে কি চলছে তা রুহামা আর ঝর্নার বুঝতে বাকি নেই। এতক্ষণ রুহামা ঝর্নার সামনে সাহস দেখালেও এখন তারও ভয় হচ্ছে প্রচুর।

মনে মনে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইছে রুহামা। ঠিক তখুনি বখাটে দের আর রুহামাদের মাঝ বরাবর যেই যায়গাটা ছিলো সেখানটা এসে দাঁড়ালো রেদোয়ান। এক প্রকার অন্যমনস্ক ভঙ্গিতেই সে এখানটায় দাঁড়ায়। না সে বখাটেদের দিকে তাকিয়েছে না রুহামাদের দিকে। রেদোয়ান তাকিয়ে আছে যেখানে বাস দাঁড়ায় সেখানটায় যেনো সেও বাসের অপেক্ষায় একজন প্যাসেঞ্জার। রুহামা মনে মনে ভাবছে ইনি কি বাবার বন্ধুর ছেলে সেই লোকটা না?

বাস এখনো আসেনি। এত দেরি বাস কখনোই করে না। আবার সাতটা পনেরো আগে কলেজ না গেলে দারোয়ান হয়তো ঢুকতেও দিবে না। তখুনি একটা লোকাল বাস এসে থামে সেখানে। রেদোয়ান সামনে হাটা ধরে। বখাটেদের মুখে উপহাসের সুরে হাসি। যেনো তাদের রাস্তার কাঁটা সরেছে। সামনে হাটা ধরেও রেদোয়ান পিছনে তাকায়। হঠাৎই বলে উঠে, – আপুরা বাস খালি আছে চলে আসেন। হয়তো আজ স্কুল বাস আসবে না। আপনাদেরও তো কলেজে দেরি হয়ে যাচ্ছে তাই না?

রুহামা আর ঝর্নার সাথে সেখানে আরও কয়েকজন ছাত্রীও ছিলো যারা বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলো। রেদোয়ানের কথা শুনে সবাই একসাথে লোকাল বাসের উদ্দেশ্য সামনে হাটা ধরে। তখন এতজনের জন্য বখাটেরা বাসের উঠার ইচ্ছে হলেও উঠতে পারেনি। আর যে স্কুলবাস এখনো আসেনি তা অন্য রোডে বখাটেদের দলের কেউ-ই আটকে রেখেছিলো। যেনো বাসস্ট্যান্ডের মেয়েদের তারা উত্যক্ত করতে পারে। বখাটে দের ভাবভঙ্গিতে রেদোয়ান তা বেশ ভালো ভাবেই টের পেয়েছিলো।বাসে উঠে স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়লো রুহামা। যেনো বুক থেকে ভারি কিছুএকটা নেমে গেছে। তবে সে পুরপুরি সিউর হতে পারছে না যে তাদের বিপদ থেকে বাঁচার উছিলা হয়ে এসেছিলেন সে আসলেই বাবার বন্ধুর ছেলে কি-না। আসলে এক পলকে কি আর মানুষের চেহারা আন্দাজ করা যায়?

লিখেছেন

সুরাইয়া আক্তার সুরভী

সুরাইয়া আক্তার সুরভী

লেখিকা, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী,
মা ডেয়রিসের “মা”

লেখকের অন্যান্য সকল পোষ্ট পেতে ঘুরে আসুন
Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Islami Lecture