Writing

জীবিত সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল কে?

তিনজন তাবেয়ীর বিতর্ক

তিনজন তাবেয়ী একটি বিষয়ে বিতর্ক শুরু করলেন। বিতর্কের বিষয়- জীবিত সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল কে?
একজন বললেন, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহু।
আরেকজন বললেন, কায়স ইবনে সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
তৃতীয়জন বললেন, “না, এই দুজনের কেউ না। সবচেয়ে দানশীল হলেন আরাবা আওসী রাদিয়াল্লাহু আনহু।”

তিনজনের বিতর্ক একসময় ঝগড়ায় রূপ নিলো। আশেপাশের মানুষজন জড়ো হলো। জানতে চাইলো তারা কী নিয়ে ঝগড়া করছেন?
তারা বললেন, জীবিত সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল কে এই নিয়ে তাদের বিতর্ক।

লোকজন পরামর্শ দিলো-
“এক কাজ করুন। এভাবে ঝগড়া করলে তো সমাধান হবে না। আসুন, আমাদের কেউ তাদের পরীক্ষা নিই। গিয়ে দেখি তারা কেমন দানশীল।”

একজন গরীব মুসাফির সেজে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গেলেন। তিনি ছিলেন ব্যবসায়ী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে ব্যবসা করার উৎসাহ দিয়েছিলেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি ঘোড়ার ওপর ছিলেন। তাঁকে বলা হলো,
“আমি একজন মুসাফির। অনেক অভাবে আছি। আমাকে কিছু দান করুন।”

আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহু ঘোড়া থেকে নেমে বললেন,

“এই ঘোড়াটি নিয়ে যান। ঘোড়ার হাওদার ওপর একটি ব্যাগ পাবেন। ব্যাগে একটি চাদর আছে।”

যুবক ঘোড়াটি নিয়ে চলে আসলো। ব্যাগে একটি চাদর পেলো, সেই রেশমি চাদরের দাম ছিলো ৪ হাজার দিনার!
এবার একজন যুবক গেলো কায়স ইবনে সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাড়ি। কায়স ইবনে সা’দ ঘুমাচ্ছিলেন। তাঁর দাসী বের হলে যুবক তার অসহায়ত্বের কথা বললো।
দাসী ভাবলো, এই সামান্য বিষয়ের জন্য মালিককে ঘুম থেকে তুলতে হবে না।

সে একটি থলে দিয়ে বললো,

“এই থলেতে ৭০০ দিনার আছে। এগুলো নিয়ে যান। আর উটশালা থেকে আপনার পছন্দমতো একটি উট নিয়ে যান। আর হ্যাঁ, যাবার সময় একজন ক্রীতদাস নিয়ে যেতে পারেন।”

সাহাবীদের যুগে ১ দিনার দিয়ে একটি ভেড়া কেনা যেতো। ইসলামের প্রথম যুগের বেশিরভাগ সাহাবীর মোহরানা ৭০০ দিনার ছিলো না।

যুবক চলে গেলো। কায়স ইবনে সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু ঘুম থেকে উঠে দাসীর কাছে মুসাফিরের ঘটনা শুনে আফসোস করে বললেন,
“তুমি আমাকে ডাক দিলে না কেনো? যা দিয়েছো, তাতে কি তার হবে?”

তবে, দাসী নিজ থেকে মুসাফিরের সাথে ভালো ব্যবহার করায় কায়স ইবনে সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহুর ভালো লাগে। তিনি সেই দাসীকে মুক্ত করে দেন।
এবার যুবক গেলো তৃতীয় সাহাবীর কাছে। আরাবা আওসী রাদিয়াল্লাহু আনহু বৃদ্ধ, চোখে দেখেন না। দুজন দাসের দুই কাঁধে হাত রেখে মসজিদে যাচ্ছেন।
এমন সময় মুসাফির সেজে যুবক তার দুর্দশার কথা বললো।

আরাবা আওসী রাদিয়াল্লাহু আনহু দাসদের কাঁধ থেকে নিজের হাত সরিয়ে বললেন,

“হে সম্মানিত মুসাফির! আমি আমার সমস্ত সম্পদ ব্যয় করেছি। আমার কাছে এই দুজন দাস ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই। আপনি এই দুজন দাসকে নিয়ে যান।”

এই বলে তিনি তাঁর দুজন দাস দিয়ে দিলেন। হাতড়ে হাতড়ে মসজিদের দিকে যাওয়া শুরু করলেন।
তিন যুবক একত্রিত হলেন। দানশীল সাহাবীদের দান দেখে তারা অবাক হলেন, মুগ্ধ হলেন।
তারা ভেবে পাচ্ছে না কাকে সবচেয়ে দানশীল বলবেন। সবাই তো সর্বোচ্চ দান করেছে।
অনেক তর্ক-বিতর্কের পর তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন, জীবিত সাহাবীদের মধ্যে কে সবচেয়ে দানশীল।

তথ্যসূত্র:

আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ – ১১/৩৫৬-৩৫৭,তারিখে দিমাশক লিইবনি আসাকিরন- ১৪/৪৫৪ পৃষ্ঠা।

লিখেছেন

আরিফুল ইসলাম (আরিফ)

আরিফুল ইসলাম (আরিফ)

পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার কলম তাকে উজ্জীবিত করেছে স্বীয় বিশ্বাসের প্রাণশক্তি থেকে।
অনলাইন এক্টিভিস্ট, ভালোবাসেন সত্য উন্মোচন করতে এবং উন্মোচিত সত্যকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে।

লেখকের অন্যান্য সকল পোষ্ট পেতে ঘুরে আসুন

পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার কলম তাকে উজ্জীবিত করেছে স্বীয় বিশ্বাসের প্রাণশক্তি থেকে।
অনলাইন এক্টিভিস্ট, ভালোবাসেন সত্য উন্মোচন করতে এবং উন্মোচিত সত্যকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Islami Lecture