যে দুআ বাতাসের চাইতে শক্তিমান

একটি চিত্র কল্পনা করুন। হয়তো অনেকেই ইতোমধ্যে এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন এবং ইউনুস(আঃ) এর সেই ঘটনার সাথে এটিকে সম্পর্কিত করতে পেরেছেন। ধরুন, আপনি নৌকায় অথবা কোন জাহাজে ভাসমান.. বড় বড় ঘূর্ণায়মান ঢেউ কিছুক্ষণ পর পর এসে আছড়ে পড়ছে। দমকা বাতাস বইছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে, যে কোন সময়ে আপনি নৌকা থেকে ছিটকে পানিতে পড়ে যাবেন। এই মূহুর্তটি সত্যিই ভয়ংকর। আমরা ইউনুস আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর জীবন থেকে এ মূহুর্তের ভয়াবহতা সম্পর্কে কিছুটা জানতে পারি।

ইমাম আয যাহাবী বর্ণনা করেছেন,
ইবরাহীম ইবনে আদহাম(রহিমাহুল্লাহ)- ও একবার এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। ইবরাহীম ইবনে আদহাম (রহিঃ) ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানী ব্যক্তি। যার নিষ্ঠা, ধর্মপরায়ণতা সর্বজনবিদিত ছিলো। তো, তিনি যখন জাহাজে ছিলেন, হঠাৎ সমুদ্রের উত্তাল হাওয়ায় ঢেউ প্রকান্ড আকারে আছড়ে পড়তে শুরু করলো জাহাজের গতির বিপরীতে বাতাস বইতে লাগলো। জাহাজে অবস্থানরত প্রত্যেকেই নিশ্চিত ভাবে ভেবে নিয়েছিলো যে, তারা কিছু সময়ের মধ্য ই মৃত্যুর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। ইবরাহীম ইবনে আদহাম(রহিঃ) তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। জাহাজ যখন প্রচন্ড বেগে ডানে বাঁয়ে দুলতে শুরু করলো, তিনি জেগে উঠলেন।
লোকেরা তাকে বলতে লাগলো, হে আবু ইসহাক! আমাদের এই বিপদ থেকে পরিত্রাণ দেবার জন্য আল্লাহর কাছে এখন তুমি কি দু’আ করবে?
এরপর তিনি দু’হাত আকাশের পানে তুললেন। কেবল একটি বাক্য পাঠ করলেন।

یَحَیُّ الْقَیُّوْمُ. أَرَيْتَنَا قُدْرَتَكَ فَأَرِنَا عَفْوَك
“হে চিরঞ্জীব ও চির শাশ্বত সত্তা! তুমি আমাদের তোমার কুদরত, মহিমা দেখিয়েছো। তোমার ক্ষমা প্রদর্শন করো।”

সুবহানাল্লাহ! তিনি এ দু’আ পাঠ করতে ই সবকিছু ই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে গেলো। বাতাস তার নিয়ত ছন্দে বইতে লাগলো। ঢেউয়ের দুলুনি বন্ধ হয়ে গেলো। এবং এরপর তিনি আবার ঘুমাতে চলে গেলেন। এমন ই ছিলো আল্লাহর সাথে তাদের সম্পর্ক! আমার এ ঘটনাটি উল্লেখ করবার উদ্দেশ্য এ নয় যে, ইবরাহীম ইবনে আদহাম(রহিঃ) কতো ই না ক্যারিশমাটিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বরং এখানে মূল যে বিষয় টি লক্ষ করবার তা হচ্ছে, এমন একটি সিচুয়েশন, যখন আমি আপনি আল্লাহর ক্ষমতা প্রত্যক্ষ করছি। কেবল আল্লাহর উপর নির্ভরশীলতা ছাড়া আর কিছু ই আমাদের করবার নাই।

দু’আটি খেয়াল করলে দেখা যায় যে, তিনি বলেন নি যে, আল্লাহ আপনি আমাদের শাস্তি দিচ্ছেন। বরং তিনি বলেছেন যে, আমরা তোমার ক্ষমতা, কুদরত প্রত্যক্ষ করেছি। এটি তোমার শক্তিমত্তার অভিব্যক্তি।
পরবর্তীতে যখন ই আমরা এরূপ অবস্থার মুখোমুখি হবো, যেখানে হতাশা ছাড়া কিছুই থাকবে না.. আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোন কিছুই কাজে লাগবে না- আল্লাহকে এই দু’আ পাঠ করার মাধ্যমে ডাকবো। নিরাপত্তা, আশ্রয় প্রার্থনা করবো।

আল্লাহ আমাদের সবসময় তাঁর ক্ষমা ও নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখুন। ঠিক যেমন তিনি আমাদের তার নিদর্শনাবলী প্রত্যক্ষ করান, সেভাবেই আল্লাহ আমাদের এ দুনিয়া এবং আখিরাতে তাঁর দয়া, ক্ষমার প্রত্যক্ষদর্শী করুন।
আমীন!

পুণ্যবানের প্রার্থনা
পর্ব-১১
মূলঃ ওমর সুলাইমান
ভাবানুবাদঃ সাবিহা সাবা

দুআ সিরিজ

Exit mobile version