Writing

ইসলামি সভ্যতায় নারীদের জ্ঞানার্জনের ইতিহাস

জ্ঞানার্জনে মুসলিম নারী।
রাসূলের যুগে নারীরা মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়তেন। অন্ধকারের মধ্যে তারা মসজিদে যেতেন, আবার চারিদিক আলোকিত হবার আগেই বাড়ি ফিরতেন। কেউ তাদেরকে দেখে চিনতে পারতো না। এমনকি অন্ধকারে নারীরা একজন আরেকজনকে চিনতে পারতেন না।
[সহীহ বুখারী: ৩৭২, ৮৭২]

ইসলামের স্বর্ণযুগের নারীদের জ্ঞানের প্রতি ডেডিকেশন ছিলো ঈর্ষনীয়। জ্ঞানার্জনে তাদের আগ্রহ কোনাংশে কম ছিলো না।

একবার কয়েকজন নারী এসে রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে আবেদন করেন-

“ইয়া রাসূলাল্লাহ! (জ্ঞানার্জনের জন্য) পুরুষরা আপনার নিকট আমাদের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। আপনি আমাদের (জ্ঞানার্জনের) জন্য একটি দিন নির্ধারণ করে দিন।”
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নারীদের জন্য একটি বিশেষ দিন নির্ধারণ করেন। সেদিন তিনি তাঁদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে নসীহাত করেন, নির্দেশ দেন।
[সহীহ বুখারী: ১০১]

আবু হুরাইরা এবং আনাস ইবনে মালিকের (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) পর সবচেয়ে বেশি হাদীস বর্ণনা করেন আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)। তিনি রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রায় দুই হাজার হাদীস বর্ণনা করেন।

রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্ত্রী হিসেবে আয়িশার (রা:) এতো বেশি হাদীস বর্ণনা করা উরওয়ার (রাহিমাহুল্লাহ) কাছে খুব একটা বিস্ময়কর ছিলো না। উরওয়া (রাহি:) ছিলেন আয়িশার (রা:) বোনপো, আসমা বিনতে আবু বকরের (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ছেলে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে আয়িশার (রা:) জ্ঞান দেখে উরওয়া অবাক হোন। তিনি খালাকে জিজ্ঞেস করলেন, “এই জ্ঞান আপনি কিভাবে অর্জন করলেন?”
আয়িশা (রা:) বোনপো-কে বললেন,
“আমি কিংবা অন্য কোনো লোক অসুস্থ হলে যে ওষুধ ও প্রেসকিপশন দেওয়া হয়, সেখান থেকে শিখেছি। তাছাড়া একজন আরেকজনকে যেসব রোগ ও ওষুধের কথা বলে আমি তাও মনে রেখেছি।”
[সিয়ারু আ’লাম আন-নুবালা: ২/১৮২-১৮৩]

আবু বকরের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মেয়ে, রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্ত্রী এই পরিচয়গুলো আয়িশাকে (রা:) অহংকারী করেনি। এই পরিচয়গুলো তাঁর জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়নি। তিনি জ্ঞানার্জন করেন এবং তাঁর জ্ঞান থেকে মুসলিম উম্মাহ উপকৃত হয়।

একজন সাধারণ মুসলিম নারী হিশেবে তিনি পর্দা করতেন। উম্মুল মু’মিনীন হিশেবে স্পেশাল পর্দা করতেন। পুরুষ সাহাবীরা সরাসরি তাঁর এক্সেস পেতেন না। আয়িশা (রা:) থেকে হাদীস বর্ণনা করেন তাঁর বোনপো উরওয়া ইবনে যুবাইর। তিনি সরাসরি খালার রুমে ঢুকতে পারতেন, খালার কাছ থেকে জ্ঞানার্জন করতে পারতেন।

আয়িশা (রা:) -এর আরেকজন ছাত্রী ছিলেন। তাঁর নাম আমরাহ বিনতে আব্দুর রহমান (রাহি:)। রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনেকগুলো হাদীস তিনি বর্ণনা করেন। তিনি ছিলেন ইমাম মালিকের (রাহি:) শিক্ষিকা। খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাহি:) ইবনু শিহাব আয-যুহরীকে হাদীস সংকলনের নির্দেশ দেবার সময় বলেন,
“প্রথমে যাও আমরাহ’র কাছে। তাঁর হাদীসগুলো আগে সংগ্রহ করো।”

একবার মদীনার বিচারক একটা রায় দিলে আমরাহ (রাহি:) তাঁর শিক্ষার্থীদেরকে বলে দেন,
যাও, বিচারককে গিয়ে বলো এই রায়টি ভুল।”
বিচারক যখন শুনলেন তার রায়ের ভুল ধরেছেন আমরাহ (রাহি:), তখন সাথে সাথে আমরাহ’র (রাহি:) রায় মেনে নেন।
মদীনার সাত ফুকাহার একজন ছিলেন সাইদ ইবনুল মুসাইয়িব (রাহি:)। একদিন দেখলেন তাঁর ক্লাসের এক ছাত্রের মন খারাপ। ছাত্রের নাম ছিলো আব্দুল্লাহ। আব্দুল্লাহকে সাইদ (রা:) জিজ্ঞেস করলেন, “কী হয়েছে তোমার?”

আব্দুল্লাহ বললেন, “আজ আমার স্ত্রী ইন্তেকাল করেছেন৷ এজন্য আমার মন খারাপ।”
স্ত্রী ইন্তেকাল করেছে, তারপরও ছাত্রটি ক্লাস মিস দিচ্ছেনা?
ছাত্রের জ্ঞানার্জনের প্রতি এমন ডেডিকেশন দেখে সাইদ (রা:) ঐদিনই নিজের মেয়ের সাথে আব্দুল্লাহর বিয়ে দেন।
আগেরদিন স্ত্রী ইন্তেকাল করেছেন, তবুও আব্দুল্লাহ ক্লাসে যান। পরদিন নতুন স্ত্রীকে রেখে আবার ক্লাসে যেতে চাইলেন। আগেরদিন যিনি শিক্ষক ছিলেন, এখন তিনি শ্বশুর।

আব্দুল্লাহ শ্বশুরের ক্লাসে যেতে চাইলে স্ত্রী বাধা দেন। স্ত্রী তাকে বললেন,
“বসো, আমার বাবার কাছে গিয়ে যা শিখতে চাচ্ছো, সেটা আমার কাছ থেকে শিখে নাও। আমি আমার বাবার ইলম অর্জন করেছি।”
নবম শতাব্দীর একজন নারী জ্ঞানার্জনের জন্য বিখ্যাত ছিলেন৷ তাঁর নাম ছিলো ফাতিমা বিনতে ইয়াহিয়া (রাহি:)। ইমাম আশ-শাওকানী (রাহি:) তাঁর সম্পর্কে বলেন,
“ফাতিমা ইলমের দিক থেকে এতোটাই পারদর্শী ছিলেন, তাঁর বাবা ইয়াহিয়ার সাথে তিনি বিভিন্ন মাস’আলা নিয়ে বিতর্ক করতেন। মেয়ের জ্ঞান-প্রজ্ঞা দেখে তাঁর আলেম বাবা স্বীকৃতি দেন- এই মেয়ের ইজতিহাদ করার সক্ষমতা আছে।”

তাঁর বাবা তাঁকে বিয়ে দেন আল-মুতাছার ইবনে মুহাম্মদের (রাহি:) সাথে। তিনিও ছিলেন একজন আলেম। মাঝেমধ্যে ছাত্রদের বিভিন্ন জটিল মাস’আলা নিয়ে আলোচনা করতেন। আলোচনা শেষে কোনো সিদ্ধান্তে পৌছাতে না পারলে ঘরের ভেতর যেতেন। ফিরে এসে মাস’আলার সমাধান বলতেন।
ছাত্ররা মজা করে বলতো:

“এই মাস’আলা তো আপনার থেকে আসেনি, ঘরের ভেতর থেকে এসেছে।”
অর্থাৎ আল-মুতাছার ইবনে মুহাম্মদ স্ত্রী ফাতিমা বিনতে ইয়াহিয়ার কাছ থেকে মাস’আলা জেনে আসতেন।
[Al-Muhadditath, Page 144]

মাজহাবের চার ইমামের সবার বাবা বাল্যকালে ইন্তেকাল করেন। জ্ঞানার্জনের প্রতি তাঁদেরকে আগ্রহী বানান তাঁদের মা। ইমাম আশ-শাফে’ঈর (রাহি:) মা তো জেরুজালেম থেকে ছেলেকে কোলে করে মক্কায় নিয়ে যান যাতে ছেলেটা মক্কার আলিমদের কাছ থেকে জ্ঞানার্জন করতে পারে।

ইমাম মালিক (রাহি:) ছোটবেলায় গায়ক হতে চেয়েছিলেন। ছেলেকে গায়ক হবার ব্যাপারে নিরুৎসাহি করে জ্ঞানের প্রতি উৎসাহি করেন তাঁর মা। কোন শিক্ষকের কাছে গিয়ে কী শিখবে সেই গাইডলাইন তাঁর মা তাঁকে দেন।
ছোটবেলায় ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের (রা:) মা তাঁকে ভোরবেলায় মসজিদে নিয়ে যেতেন, আর দিনশেষে মসজিদ থেকে নিয়ে আসতেন।
এইসব মহিয়সী নারীদের আত্মত্যাগের ফলে ইতিহাসে তাঁদের সন্তানরা ‘ইমাম’ হয়ে আছেন।

ইসলামের স্বর্ণযুগে নারীরা পর্দার ব্যাপারে যেমন কনসার্ন ছিলেন, তেমনি জ্ঞানার্জনের ব্যাপারেও কমিটেড ছিলেন। পর্দার প্রশ্ন তাঁদের জ্ঞানার্জনে বাধা হয়ে দাড়ায়নি। আবার পর্দাকে জলাঞ্জলি দিয়ে তার জ্ঞানার্জনে অগ্রসর হননি। এই দুটোকে ব্যালেন্স করে চলেছেন।

স্বর্ণযুগের নারীরা জ্ঞানার্জনের বেলায় হীনমন্যতায় ভুগতেন না। পর্দা পালন করেও কিভাবে শেখা যায়, শেখানো যায় তার উদাহরণ তারা রেখে গেছেন।
জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণের জন্য রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুগের নারীরা রাসূলের দ্বারস্থ হয়েছেন। রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছ থেকে শেখার আগ্রহ জানিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের উৎসাহে পানি ঢালেননি৷ তিনিও তাঁদের জানার আগ্রহকে সমর্থন জানিয়েছেন।
সমাজের একটা অংশ যদি ইলম বঞ্চিত থাকে তাহলে সমাজের বাকি অংশ বদলাবে কিভাবে?
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহি:) অবশ্য নারীদেরকে ‘সমাজের অর্ধেক’ বলতে নারাজ।
তিনি বলেন:
“Women are one-half of the society which gives birth to the other half so it is as if they are the entire society.”
অর্থাৎ,
“নারীরা হলো সমাজের অর্ধেক। কিন্তু, বাকি অর্ধেককেও তো নারীরা জন্ম দেয়। তারমানে নারীরাই যেন পুরো সমাজ।”

পরিশিষ্ট:
মধ্যযুগের নারী: ইউরোপ বনাম মুসলিম বিশ্ব

ইউরোপ ডাইনী-নিধনের (Witch Hunt) নামে তিনশত বছর ধরে ৪ থেকে সাড়ে ৬ লাখ নারীকে হত্যা করেছে। সময়টা হিজরি মোতাবেক ৮৫০-১১৫০ হিজরি। সেই সময় মুসলিম মেয়েরা কী করছে? ধুমসে পড়ছে আর পড়াচ্ছে।

আয়িশা বিনতে জারুল্লাহ শাইবানি (মৃত্যু ৮৭৩ হি.) বিভিন্ন শহরে ঘুরে ঘুরে ১০৫ জন শিক্ষকের কাছে সনদ নিচ্ছেন।

আসিয়া বিনতে মুহাম্মাদ ইরবিলি ২০০ এর অধিক উস্তাদের থেকে সনদ নিয়েছেন।

উম্মুল হায়া উমামাহ (মৃত্যু ৯৩৯ হি.) আরবি ব্যাকরণের বইগুলো মুখস্ত করছেন।

বাদশাহ আওরঙ্গজেবের কন্যা যাইবুনিইসা (মৃত্যু ১১১৩ হি.) কুরআন-হাদীস-ফিকহ-ক্যালিগ্রাফি শিখছেন।

উম্মে হানি বিনতে নুরুদ্দীন (মৃত্যু ৮৭১ হি.) তখন ৭ জন উস্তাদের কাছে শিখছেন ৫০ এর অধিক বই।

চার্চ যখন পান থেকে চুন খসলে নারীদের পুড়িয়ে মারছে, নিত্যনতুন ডিভাইস বানিয়ে টর্চার করছে, তখন-
আয়িশা বিনতে আল-যাইন (মৃত্যু ৮৮০ হি.) এবং সারা বিনতে উমার হামাবী (মৃত্যু ৮৫৫ হি.) বিনা পারিশ্রমিকে ছাত্র-ছাত্রীদের সেশান নিয়ে চলেছেন।
শাইখা আসমা বিনতে কামাল (মৃত্যু ৯০৪ হি.) বিশেষভাবে মেয়েদের ক্লাস নিচ্ছেন।

হাদীসবিদ যাইনুশ শরীফ (মৃত্যু ১০৮৩ হি.) ও তাঁর বোন মুবারাকাহ মিলে মক্কার মতো জায়গায়, যেখানে হাদীসের সর্বোচ্চ পুরুষ প্রফেসর গিজ গিজ করতো সবসময়। সেখানে হাদীসের সর্বোচ্চ কিতাব বুখারী শরীফ –সহ অন্যান্য বড়ো বড়ো কিতাব পড়াচ্ছেন।

মক্কার ফকীহা কুরাইশ আল তাবারী শ্রেষ্ঠ ৭ জন হাদীসবিদদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি বাগিয়ে নিচ্ছেন পুরুষদের ডিঙিয়ে।

মদীনার দীর্ঘজীবী শাইখা মুফতী ফাতিমা বিনতে শুকরুল্লাহ নিজ বাসায় পুরুষ-মহিলাদের লেকচার দিচ্ছেন ৯০ বছর ধরে।

সবচেয়ে চূড়ার সময়টা ছিলো ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম হিজরি শতক, এই তিনশ বছর। এই তিনশ বছর তো মার মার কাট কাট অবস্থা। আর সে সময় ইউরোপে চলছে ক্যাথলিক সমর্থিত পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য এবং সেখানে চলছে নারীদের ব্যাপারে সেন্ট পলের ফতোয়া-
“I don’t permit a woman to teach or have authority over man… And Adam was not the one deceived it, it was the woman who deceived and became a sinner.”

আর এদিকে মুসলিম বিশ্বে
তখন মদীনার মসজিদে উম্মুল খাইর ফাতিমা আর দামেশকের বনু উমাইয়া মসজিদে আয়িশা বিনতে আব্দুল হাদী সর্বোচ্চ ক্লাসে মুহাদ্দিসা হিসেবে বুখারী শরীফ পড়াচ্ছেন। আয়িশা বিনতে হাদীকে তো তাঁর সময়ের সর্বোচ্চ লেভেলের হাদীস স্পেশালিস্ট মনে করা হতো। দূর দূর থেকে ছাত্ররা আসতো তাঁর কাছে।

তখন একই ক্লাসে ১৪১ জন ছাত্র-ছাত্রীকে ‘তাবরানি শরীফ’ পড়াচ্ছেন শাইখা যাইনাব বিনতে কামাল (মৃত্যু ৭৮০ হি.)।

দামেশক ও কায়রোর মসজিদে মসজিদে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে সারাটা দিন ধরে বুখারী শরীফের লেকচার দিচ্ছেন সিত্তুল উযারা বিনতে উমার তানূখী (মৃত্যু ৭১৬ হি.) এরকম আরও আছেন ফাতিমা বিনতে সাদ খাইর

ইস্পাহানে শাইখা ফাতিমা জুযদানী দামেশকে আমিনা বিনতে মুহাম্মাদ পড়াচ্ছেন নারী-পুরুষ বিদ্যার্থীদের।

মার্ভ শহরে কারীমা ৫ দিনে পুরো বুখারী পড়িয়েছেন খতীব বাগদাদীকে।

সিত্তুল উজারা বিনতে মুনাজ্জা ইমাম যাহাবীকে পড়াচ্ছেন বুখারী আর মুসনাদে শাফিঈ।

শাইখ মুওয়াফফাক দীনের বাসায় বড়ো বড়ো ক্লাস হত। সেখানে অধিকাংশই ছিলেন শিক্ষিকা। ২৪ জনের তালিকা পাওয়া গেছে, যারা নিয়মিত এখানে ক্লাস নিতেন।

ইমাম হাফিয ইবনু নাজ্জার ৪০০ নারী শিক্ষিকার কাছে, ইবনু আসাকির ৮০-এর অধিক, আবু সাদ সামানী ৬৯ জন, আবু তাহির সিলাফী ২০ –এর অধিক এবং ইবনুল জাওযী ৩ জন শিক্ষিকার নাম উল্লেখ করেছেন। ইবনুল আছির, ইবনুল সালাহ, জিয়াউদ্দিন মাকসিদী, আল-মুনযিরী সকলেই বহু সংখ্যক শিক্ষিকার অধীনে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ আল-মুনাজ্জা (মৃত্যু ৮০৩ হি.) ১৬৪টি কিতাবের লেকচার দিচ্ছেন নিয়মিত।

ইবনু হাজার আসকালানী ‘আদ-দুরার আল-কামিনাহ’ গ্রন্থে হিজরি ৮ম শতাব্দীর ১৭০ জন প্রখ্যাত নারীর জীবনী উল্লেখ করেন, যাঁদের অধিকাংশই হাদীসবিদ ছিলেন। এর মধ্যে কয়েকজন ছিলেন প্রফেসর লেভেলের। যেমন: জুয়াইরিয়া বিনতে আহমদ। তিনি বড়ো বড়ো মাদ্রাসায় ভিজিটিং প্রফেসর ছিলেন।

বাগদাদে শুহদা বিনতে নাসর –এর ছাত্রদের ৫৯ জনের ছাত্রদের তালিকা এসেছে যাঁদের সবাই উঁচু উঁচু পদে আসীন হয়েছেন পরে; কেউ বিচারপতি, কেউ অধ্যক্ষ, কেউ গবেষক।

যাইনাব বিনতে মাক্কীর ছাত্র ছিলেন আল-মিযযী, ইবনু তাইমিয়্যা, যাহাবী, বিরযালী সহ বিখ্যাত আরও অনেকে।
হিজরি ৯ম শতাব্দীর ১৩০ জন নারী বিশেষজ্ঞদের নাম এসেছে আব্দুল আযীয ইবনু উমার এর ‘মুজাম আল-শুয়ুখ’ গ্রন্থে।

১০২ জনের একটি তালিকা এসেছে যাঁদের সবাইকে সনদ দিয়েছেন শাইখা উম্মে মুহাম্মাদ যাইনাব মাকদিসী, এঁদের প্রায় সবাই পুরুষ।

নিজ বাসায় ক্লাস নিতেন ফাতিমা বিনতে আলি, উম্মুল ফাখর জুমুয়া, উম্মুল ফিতইয়ান হান্তামাহ, ইবনু রুশাইদের উস্তাদা যাইনাব বিনতে আলাম, উম্মুল ফজল কারীমাহ –সহ অনেক শিক্ষিকা।

‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ শব্দটা ইউরোপের জন্য। মুসলিম বিশ্ব তখন ঝলমল করছে আলোয়।

ডা. শামসুল আরেফিন শক্তি (ভাইয়ের) ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ২.০’ বইয়ের পৃষ্ঠা ১৪৩-১৪৭ থেকে উপরের পরিশিষ্ট অংশ গুলো নেয়া হয়েছে। লেখক তথ্যগুলো নিয়েছেন শাইখ আকরাম নদভীর ‘Al-Muhaddithat’ বই থেকে।

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

লিখেছেন

  • পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার কলম তাকে উজ্জীবিত করেছে স্বীয় বিশ্বাসের প্রাণশক্তি থেকে।
    অনলাইন এক্টিভিস্ট, ভালোবাসেন সত্য উন্মোচন করতে এবং উন্মোচিত সত্যকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে।

    View all posts

Show More

Related Articles

Leave a Reply, if you have comments about this post.

Back to top button