কীভাবে বুঝব আমার তওবা কবুল হয়েছে

দয়াময় আল্লাহর কাছে তওবা করলে তিনি আমাদেরকে ক্ষমা করেন। কিন্তু তিনি যদি ক্ষমা করেন তাহলে আমরা কীভাবে বুঝবো? সে রকম কোনও আলামত আছে কি?
মহান আল্লাহ আমাদেরকে তার রহমত থেকে নিরাশ হতে নিষেধ করত: আমাদের পাপরাশী ক্ষমা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন,

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করেন। তিনি অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।”
[সূরা যুমার: ৫৩]

তিনি আরও বলেন,

وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।”
[সূরা নূর: ৩১]

তাই আমাদের উপর আবশ্যক হলো, আমরা কোন অন্যায়-অপকর্ম বা পাপাচারিতায় লিপ্ত হলে তৎক্ষণাৎ তা পরিত্যাগ করা এবং অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। তবে আশা করা যায় তিনি আমাদের প্রাপরাশি মোচন করবেন এবং তাঁর অবারিত ক্ষমা ও দয়া দ্বারা সিক্ত করবেন। নিশ্চয় ই তিনি পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল।
তবে কী করে বুঝব যে, আল্লাহ আমাদের তওবা কবুল করেছেন?
হ্যাঁ, তা বোঝার কিছু আলামত রয়েছে। যেমন:

মোটকথা, আল্লাহ তাআলা বান্দার তওবা কবুল করে নিলে তার চিন্তা-চেতনা ও মন-মানসিকতায় ইতিবাচক ও কল্যাণকর পরিবর্তন ঘটিয়ে দেন। ফলে সে আরও বেশি আল্লাহ মুখী হয় এবং পাপাচার থেকে দূরে থাকে।
এমন মানসিক অবস্থায় আমাদের উচিৎ, আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি আরও অধিক পরিমাণে আরও বেশি সৎকর্ম করা এবং জেনে-বুঝে আর কখনো অন্যায়ের দিকে পা না বাড়ানো।

শাইখ বিন বায রাহ. বলেন,
من دلائل أن الله قبل توبتك استقامتك على الحق، وحذرك من العودة إلى السيئات والمعاصي التي تبت منها، فعليك بحسن الظن بالله، والحذر من العودة إلى المعاصي
“তওবা কবুলের অন্যতম প্রমাণ হল, হকের উপরে আপনার দৃঢ়তা এবং যে সব গুনাহ ও নাফরমানি থেকে তওবা করেছেন সেগুলোতে পুনরায় ফেরত যাওয়ার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন। অতএব, আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখুন এবং গুনাহের দিকে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হোন।”

আল্লাহ তওফিক দান করুন।
আমিন।

Exit mobile version