যে আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট

মক্কার একজন আলেম ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘর থেকে বের হলেন। রাস্তায় খুঁজে পেলেন একটি ব্যাগ। ব্যাগটা নিয়ে ঘরে আসলেন। খুলে দেখলেন সেটাতে একটি হীরার নেকলেস!
তিনি বলেন, এমন নেকলেস আমি আমার জীবনে দেখিনি। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি কয়েকশো কোটি টাকার মালিক!

কিছুক্ষণ পর দরজায় একজন নক করলো। তিনি দরজা খুললেন। একজন বৃদ্ধ বললো, “আমি আমার একটি ব্যাগ হারিয়ে ফেলছি। সম্ভবত আশেপাশের কোথাও পড়েছে। কেউ যদি ব্যাগটি পেয়ে থাকেন, তাকে আমি ৫০০ দিনার দেবো।”

৫০০ দিনার মানে কয়েক কোটি টাকা!
যে ব্যক্তি ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাস্তায় বের হলেন, তিনি হীরা পেলেন, হীরা ফেরত দেবার বিনিময়ে কোটি টাকার অফার পেলেন, সেই ব্যক্তি আমাদের কাছে অনেক সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে না?

কিন্তু, তিনি ভাবলেন অন্য কিছু। তিনি ভাবলেন, এই হীরার মালিক আমি নই, এগুলোর বিনিময়ে ৫০০ দিনার গ্রহণ করা আমার জন্য ঠিক হবে না।

ফলে, বৃদ্ধকে হীরার থলেটি ফিরিয়ে দিলেন।

মক্কায় জ্ঞানার্জন করতে লাগলেন। এভাবেই কয়েক বছর কেটে গেলো।

একবার তিনি কয়েকজনের সাথে ভ্রমণে বের হলেন। নৌকায় ভ্রমণ করছিলেন। মাঝপথে ঝড় ওঠে। নৌকা ডুবে যায়, প্রায় সবাই মৃত্যুবরণ করে।

সেই আলেম কোনোরকম একটা তীরে ফিরেন। অপরিচিত দ্বীপে গিয়ে কয়েকজনের সাথে কথাবার্তা বললেন। তখন নামাজের সময় হলো।

একজন তার পোশাক দেখে জিজ্ঞেস করলো, “আপনি নামাজ পড়াতে পারবেন?”
তিনি বললেন, “হ্যাঁ, পারবো।”

তার তেলাওয়াত শুনে সবাই মুগ্ধ। তাকে তারা ইমাম হিসেবে রেখে দিলো। তিনি কুরআন পড়তে পারতেন। সেখানকার বাচ্চাদের কুরআন শেখাতে লাগলেন।

প্রতিদিন নানান উপহার-উপঢৌকন আসতে থাকে। দ্বীপের লোকেরা ইমাম সাহেবকে ছাড়তে রাজি না। এমন ইমাম পেয়ে তারা খুব খুশি।

তিনিও ভাবতে লাগলেন, কই থেকে কই আসলেন?
একেবারে অপরিচিত এলাকার মানুষ তাকে আপন করে নিলো। আল্লাহ তার রিযিকের কী সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন!

ইমাম সাহেব যেন তাদেরকে ছেড়ে যেতে না পারেন, সেজন্য তারা একজন ইয়াতিম মেয়ের সাথে ইমামের বিয়ে দিতে চাইলো। অনেকটা জোর করেই বিয়ে দিলো!

ইমাম সাহেব বাসর রাতে স্ত্রীকে দেখে অবাক। তিনি দেখতে পেলেন স্ত্রীর গলায় সেই হীরার নেকলেস, যেটা তিনি মক্কায় ফেরত দিয়েছিলেন বৃদ্ধকে!

পরদিন লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কীভাবে সম্ভব?
লোকজন চিৎকার করে বললো, “আল্লাহু আকবর!

এমন চিৎকারে ইমাম সাহেব ভয় পেয়ে গেলেন।

লোকজন বললো, “কয়েকবছর আগে আমাদের এলাকার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি মক্কা থেকে ফিরে একটি ঘটনা শুনান। সেখানে এক যুবক তার হারিয়ে যাওয়া হীরের নেকলেস ফেরত দিয়েছে, যা তিনি নিজের মেয়ের জন্য কিনেছিলেন।

এলাকায় ফিরে তিনি আফসোস করতে থাকেন সেই যুবকের জন্য। তিনি ইচ্ছাপোষণ করেন সেই যুবকের সাথে মেয়ের বিয়ে দেবেন।

কিন্তু, তার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন!

দেখুন, আপনার তাকদীর, সেই সম্ভ্রান্ত লোকের দু’আ আপনাকে এখানে নিয়ে আসলো। আপনি সেই মেয়েকেই বিয়ে করেন, যার জন্য সেই মেয়ের বাবা দু’আ করে যান। যেই হীরার নেকলেস আপনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, এখন সেই নেকলেস আপনার ঘরে!”

সেই মহান আলেমের নাম ছিলো কাদিল মারিস্তান।
সেই আলিমের নাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনু আব্দিল বাকি আল আনসারী। তিনি মারিস্তান শহরের কাজী ছিলেন।
রেফারেন্স: আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ: ৯/৬২১, হায়াতুস সাহাবা: ৪/৫১৫, তারিখে তাবারি: ৩/৩৩, কিতাবুয যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলা: ৩/১৯৩,সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২০/২৩

তার মনে পড়লো কুরআনের একটি আয়াত:

"ধৈর্যধারণ করো। আল্লাহ পুণ্যবানদের প্রতিদান নষ্ট করেন না!"
[সূরা হুদ: ১১৫]

লিখেছেন

আরিফুল ইসলাম (আরিফ)

পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার কলম তাকে উজ্জীবিত করেছে স্বীয় বিশ্বাসের প্রাণশক্তি থেকে।
অনলাইন এক্টিভিস্ট, ভালোবাসেন সত্য উন্মোচন করতে এবং উন্মোচিত সত্যকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে।

লেখকের অন্যান্য সকল পোষ্ট পেতে ঘুরে আসুন

পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার কলম তাকে উজ্জীবিত করেছে স্বীয় বিশ্বাসের প্রাণশক্তি থেকে।
অনলাইন এক্টিভিস্ট, ভালোবাসেন সত্য উন্মোচন করতে এবং উন্মোচিত সত্যকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে।

Exit mobile version